কটিয়াদীতে চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রীদের হয়রানী

মাইনুল হক মেনু স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজ ও ডা. আব্দুল মান্নান মহিলা কলেজের ছাত্রীদের মারধর ও হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে বাসের হেলপার এবং চালকের বিরুদ্ধে। আহত ছাত্রী ছানিয়া আক্তার, সুমিত্রা, সায়মা খাতুন ও সোনিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, রবিবার সকালে কটিয়াদী সরকারি কলেজ এবং ডা. আব্দুল মান্নান মহিলা কলেজের বেশ কিছু ছাত্রী পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে কলেজে আসার জন্য অনন্যাসুপার পরিবহনে উঠে। তারা কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড নামতে চাইলে বাসের হেলপার তাদের না নামিয়ে ড্রাইভারকে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে যেতে বলে। ড্রাইভার দ্রুত গাড়ি চালিয়ে ছাত্রীদেরকে কিশোরগঞ্জ নিয়ে যেতে থাকলে হেলপার এবং ড্রাইভারের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় হেলপার ছাত্রীদের চরথাপ্পর ও কিল ঘুষি মারে। চলন্ত বাসে তাদের টানা হেচড়া করলে ছাত্রীরা আহত হয়। ছাত্রীদের কেউ কেউ তাৎক্ষনিক বিষয়টি মোবাইল ফোনে দুই কলেজের অধ্যক্ষকে জানালে তারা প্রশাসন এবং পুলিশের সহযেগিতা চান। কটিয়াদী থানার ওসি বিষয়টি অবগত হয়ে পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে ছাত্রীদেরকে ফিরিয়ে এনে যার যার কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট বুঝিয়ে দেন। ডা. আব্দুল মান্নান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শামীমা সুলতানা বলেন, লেখা পড়ার জন্য দূর দূরান্ত থেকে ছাত্রীরা কষ্ট করে আসে। পরিবহন মালিক-শ্রমিক একটু মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে যদি না দেখে, ছাত্রীদের যাতায়াতে একটু সহযোগিতা না করে তাহলে ছাত্রীদের লেখাপড়া বাধা গ্রস্থ হবে। দূরের ছাত্রীদের লেখাপড়ার জন্য পরিবহন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করি। কটিয়াদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সবিতা রানী দেবী বলেন, এক সপ্তাহ পূর্বেও আমার কলেজের ছাত্রদেরকে পরিবহন শ্রমিক মারধর করে। পরে মালিক পক্ষ বিষয়টি আপোষ মীমাংসা করলেও আজ আবার ছাত্রীদেরকে ভয়ভীতি দেখায় এবং কটিয়াদীতে তাদের না নামিয়ে কিশোরগঞ্জ নিয়ে যায়। বিষয়টি নূর মোহাম্মদ এমপি স্যারকে জানানো হয়েছে। ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে পরিবহন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা আশা করি।
কটিয়াদী থানার ওসি আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত বলেন, সংবাদ পেয়ে তৎক্ষনাৎ পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে ছাত্রীদের উদ্ধার করি এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট তাদেরকে পৌঁছে দিয়ে আসি। এক সপ্তাহ পূর্বেও ছাত্রদের সাথে বিবাদের ঘটনা ঘটে। পরিবহন মালিকদের সাথে কথা বলে বিষয়টি আপোষ করা হয়। তারা এক গাড়িতে ৫জন ছাত্র-ছাত্রীর বেশী না উঠার পরামর্শ দিলেও ছাত্র ছাত্রীরা মানতে চায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.