বড় পুকুরিয়ার ৭ এমডিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

২৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার কয়লা আত্মসাতের অভিযোগে বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ৭ জন এমডিসহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় মামলার ৫ আসামিকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কমিশনের অনুমোদনের পর আজ রবিবার দুদকের উপপরিচালক মো. শামছুল আলম দুদকের দিনাজপুরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তদন্ত ফাইলে চার্জশিটটি দাখিল করেন। এ চার্জশিট শিগগিরই বিচারিক আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য।

২৩ আসামির মধ্যে সাত সাবেক এমডি হলেন, মো. মাহবুবুর রহমান, মো. আব্দুল আজিজ খান, খুরশীদুল হাসান, কামর“জ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান, এস এম নুর“ল আওরঙ্গজেব ও হাবিব উদ্দিন আহাম্মদ। এছাড়া সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. শরিফুল আলম, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবুল কাসেম প্রধানীয়া, মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন বিভাগ) আবু তাহের মো. নুর-উজ-জামান চৌধুরী, ব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিসেস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (মেন্টেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা শাখা) সৈয়দ ইমান হাসান, উপ-ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মেন্টেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. মোর্শেদুজ্জামান, উপ-ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) মো. হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) মো. জাহেদুর রহমান। এছাড়া তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়ায় সহকারী ব্যবস্থাপক (ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্র নাথ বর্মন, মো. মনির“জ্জামান, ব্যবস্থাপক (কোন হ্যান্ডেলিং ম্যানেজমেন্ট) মো. শোয়েবুর রহমান, উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর ডিপার্টমেন্ট) এ কে এম খালেদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) মো. জোবায়ের আলীকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়।অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ৫ জনকে। তারা হলেন, ব্যবস্থাপক (কোম্পানির প্ল্যানিং অ্যান্ড এক্সপোরেশন বিভাগ) মো. মোশারফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড মেন্টেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) মো. একরামুল হক, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) গোপাল চন্দ্র সাহা ও সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো. আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী।

দুদক সূত্র বলছে, ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লা ঘাটতির অভিযোগে বিসিএমসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানায় মামলা করেন। তফসিলভুক্ত হওয়ায় অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক। তদন্তকালে দুদক প্রমাণ পায় যে আসামিদের পরস্পর যোগসাজশে ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত এসব কয়লা আত্মসাত করেছে। যার মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা। যা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.