আন্দোলনে তালা ঝুলছে ফুলবাড়ী পৌরসভায়

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য দাবিতে পৌর কার্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখে ১৪ জুলাই থেকে ঢাকায় টানা কর্মসূচি পালন করছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। এতে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিতসহ দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী।
পৌর মেয়র বলছেন, নাগরিকদের সুবিধার্থে জরুরি কাজ কর আদায়, লাইসেন্স নবায়ন, জন্ম নিবন্ধনের কার্যক্রম সীমিত আকারে করা হচ্ছে। তবে সহকারি প্রকৌশলী মো. লুৎফুল হুদা চৌধুরী লিমন বলছেন, কর্মকর্তা-কর্মকারিরা আন্দোলনে আছেন, তাই পৌরসভার সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
জানা যায়, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতাসহ সকল সুযোগ-সুবিধার দাবিতে গত ১৪ জুলাই থেকে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারি শূন্য হওয়ায় পৌরসভায় প্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী। রাস্তায় ময়লার ভাগার পড়ে থাকলেও পরিচ্ছন্ন হচ্ছে না, নাগরিকত্ব সনদসহ জন্মনিবন্ধন সনদ প্রতিটি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নাগরিকরা।
কাঁটাবাড়ী গ্রামের রিকশা চালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, আমার রিকশার লাইসেন্স নম্বর ১। ১৯৯৫ সাল থেকে এই ১ নম্বরটি আমি ধরে রেখেছি। এজন্য প্রতি বছর ১ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ফি জমা দিয়ে আমার লাইসেন্স নম্বর ১ কে ঠিক রেখে চলেছি। কিন্তু এ বছর যে কী হয়? কারণ পৌরসভার লোকজন ঢাকায় গেছেন বেতন বাড়াতে। এ কারণে আমার লাইসেন্স ফিটা জমা দিতে পারছি না। কাঁটাবাড়ী, নিমতলা থেকে গড় ইসলামপুর সড়কের পার্শ্বে ড্রেন নির্মাণ হলেও ড্রেনে পানি না গিয়ে রাস্তায় জমে সয়লাব হচ্ছে।
কৃষ্ণপুর গ্রামের মেহেদী হাসান ও কানিজ ফাতেমা বলেন, পৌরসভা থেকে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টায় নাগরিকত্ব ও জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য পৌর কার্যালয়ে গিয়ে ফেরত আসতে হয়েছে। বর্তমানে কার্যালয়টি জনশূন্য ভুতুরে পরিবেশ বিরাজ করছে। গেটের বাইরে এক ব্যক্তি তাদের জানিয়েছেন পৌরসভার সবাই ঢাকায় আন্দোলন করছেন, তাই কোন কিছুই এখন পাওয়া যাবে না। ঢাকা থেকে ফেরত আসলে তখন আসেন।
ফুলবাড়ী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পৌর কর্মচারী ও কর্মকর্তারা পৌরসভায় না থাকার কারণে কোন কাজই হচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। বৃষ্টির পানি নামছে না। নোংরা পানির মধ্যদিয়েই পথচারিদের চলাচল করতে হচ্ছে। পৌরসভার নাগরিকরা সনদ নিতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন।
পৌর কার্যালয় এলাকার এক দোকানী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পৌরসভায় কোন কর্মকর্তা-কর্মচারি কার্যালয়ে আসেন না। সবাই গেছেন ঢাকায় । আবার যারা যাননি তারা নিজের কাজকর্ম নিয়ে থাকছেন। এ কারণে জরুরি কাজে লোকজন এসে ঘুরে যাচ্ছেন প্রতিদিন।
পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী মো. লুৎফুল হুদা চৌধুরী লিমন বলেন, দাবি আদায়ের জন্য গত ১৪ জুলাই থেকে পৌরসভার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ঢাকায় অবস্থান করে আন্দোলন করছেন। এ কারণে পৌরসভার সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আন্দোলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ-ই কাজে যোগ দিবেন না। তবে আশা করা যাচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবারের (২৫ জুলাই) মধ্যে কিছু একটা ঘোষণা আসবে সরকারের পক্ষ থেকে। এ জন্য নেতৃবৃন্দ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে যোগাযোগ করছেন।
পৌর মেয়র মো. মুরতুজা সরকার মানিক বলেন, নাগরিকদের সুবিধার্থে জরুরি কাজ কর আদায়, লাইসেন্স নবায়ন, জন্ম নিবন্ধনের কার্যক্রম সীমিত আকারে করা হচ্ছে। কয়েকজন নাগরিকত্ব ও জন্মনিবন্ধনের জন্য পৌরসভায় গিয়ে কাউকে না পেয়ে ফেরত এসেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ওই সময় হয়-তো বা পৌরসভায় কেউ ছিল না। তবে পৌরসভার দরজা একটি খোলা রাখা হচ্ছে। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.