মহেশপুরে সাবেক অধ্যক্ষ রফি উদ্দিনের দূর্ণীতি ও অনিয়মের তথ্য ফাঁস

মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের মহেশপুরে সরকারী বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হামিদুর রহমান ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রফি উদ্দিনের দূর্ণীতি ও অনিয়মের আরো তথ্য ফাঁস, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ক্লাস না নিয়ে বেতন ভাতা উত্তোলন, অধ্যক্ষকে দেখে নেওয়ার হুমকি।
প্রাপ্ত সূত্রে প্রকাশ, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হামিদুর রহমান কলেজটি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ২০১৩ সালে জাতীয়করনের পূর্ব পর্যন্ত কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন মোঃ রফিউদ্দিন। কলেজটি জাতীয়করন হওয়ার পর সরকারীভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগ হয়। যে কারনে তিনি প্রভাষক পদে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে তিনি আর কোনদিন ক্লাস নেননি। ভূগোল বিষয়ে তার নিয়োগ থাকলেও ২য় শিক্ষক ক্লাস নিয়ে থাকেন। ২০১৮ সালের প্রথমদিকে তৎকালীন অধ্যক্ষ শাহ আলম সাহেব ক্লাস না নেওয়ার ব্যাপারে তাকে শোকজ নোটিশ দিলেও তার জবাব না দিয়ে তিনি প্রভাব খাটিয়ে অদ্যবদি কলেজ থেকে বেতন ভাতা নিয়ে আসছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে তৎকালীন সময়ে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব থাকায় তার হাতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে একটি সিন্ডিকেট গঠন করে ঐ কলেজে রাম-রাজত্ব কায়েম করেছে। যে সকল অধ্যক্ষ বা শিক্ষক ঐ কলেজে নিয়োগ নিয়ে আসে তাদেরকে সে নানাভাবে হয়রানী করার চেষ্টা করে ফলে এই কলেজে ভাল কোন শিক্ষক বেশীদিন থাকতে পারে না।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর আশরাফুল হকের উপর খবরদারী করছে এবং সরকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব বিস্তার করছে। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বল্লে তাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে থাকে। অধ্যক্ষ আশরাফুলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করেন।
অপর একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ২০০০ সালে দূর্ণীতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ হিসেবে তার নিয়োগ হয়। তৎকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে চাকুরী প্রত্যাশী খর্দ্দখালিশপুর গ্রামের ওলিয়ার রহমান জানায়, তিনি ঐ কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার প্রত্যাশায় আবেদন করেছিলেন। তার আবেদন বৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং রিসিভ কপি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রফি উদ্দিনের ষড়যন্ত্রে তাকে এডমিটকার্ড না দিয়ে ১৬/৯/২০০০ সালে যশোর এমএম কলেজে তার স্বপক্ষে আরো ৩ জন প্রার্থী সংগ্রহ করে দূর্ণীতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ গ্রহন করে। এতে ওলিয়ার রহমান ক্ষুব্ধ হয়ে ২০০০ সালের অক্টোবর মাসে মহেশপুর থানায় একটি সাধারন ডায়রী করে। তৎকালীন কলেজের সভাপতি সাজ্জাতুয জুম্মা চৌধুরী বিষয়টি নিরসন করার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন থামিয়ে রাখে। পরবর্তীতে ওলিয়ার রহমান মহেশপুর মহিলা কলেজে প্রভাষক পদে চাকুরী নেন। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, রফি উদ্দিন প্রদর্শক(ভূগোল) পদে মহেশপুর ডিগ্রী কলেজে দূর্ণীতির মাধ্যমে নিয়োগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তৎকালীন ঐ কলেজের অধ্যক্ষ আফসার উদ্দিনের দূর্ণীতির তথ্য ফাঁস হলে তার চাকরী যায় ফলে রফি উদ্দিনের নিয়োগ কার্যকর হয় না। পরে সে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান কলেজে দূর্নীতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পায়। এ ব্যাপারে রফি উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.