ভারতসহ বিভিন্ন দেশে মুসলীম নির্যাতনের চালচিত্র ও জাকির নায়েক প্রসঙ্গ

মুসলমানদের উপর নির্যাতন ও ষড়যন্ত্র নতুন কিছু নহে। ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব থেকেই এর সূত্রপাত। তন্মধ্যে ফেরাউন, নমরুদ, কারূন, আবু জাহেল, এয়াজিদসহ আরও অনেক ব্যক্তি, গোষ্ঠি, তস্কর ও অনেক দেশের ন্যাক্কারজনক মর্মস্পর্শি নির্মমতা কারও না জানার নহে। ইতিহাসে যার রয়েছে ভুরি ভুরি প্রমাণ, উপমা ও উদাহরণ। তদোপরি তাদের পরিণতিও কারও না জানার কথা নয়। এছাড়া ইসলাম ধর্মের প্রচার, প্রসার ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেররা তায়েফ, ওহুদ ও বদর যুদ্ধসহ আরও ছোট বড় অনেকগুলো যুদ্ধ সংঘটিত করে থাকে। এ সমস্ত যুদ্ধে আল্লাহর হাবিব ও আখেরী জামানার শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সাহাবীদের সঙ্গে নিয়ে কাফেরদের চাপিয়ে দেওয়া এসব যুদ্ধে ঈমানী শক্তি নিয়ে মোকাবিলা করে থাকেন। বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের অবিস্মরণীয় বিজয় (ঠরপঃড়ৎু) কাফেরদের ছিন্নভিন্ন ও পরাজয় কারও না জানার কথা নয়। কারবালার যুদ্ধের নৃশংসতা ও মর্মস্পর্শী হৃদয় বিদারক ঘটনা আজও ভুলে যাওয়ার নয়। এসবই ছিল মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রেরই নামান্তর।

ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব, খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগ, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) জন্ম ও তাহার ওফাতের পরও ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের ওপর ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, নির্মমতা ও লোমহর্ষক ঘটনা নির্যাতন একটার পর একটা কম ঘটেনি। প্রফেসর ফিলিপ কে হিট্টি (পিকে হিট্টি) আরবের ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে (ঐরংঃড়ৎু ড়ভ অৎধন) লিখেছেন, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ওফাতের পর তোলায়হা, মুসায়লামা, সাজাহসহ চার ভন্ড ও প্রতারক নবীর (ঋধঁষংব ঢ়ৎড়ঢ়যবঃ) আবির্ভাব ঘটে। ওরা তখন নিজেরা নিজেরাই ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে অবশেষে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। তাদের অস্থিত্ব বিলীন হয়ে যায়। প্রফেসর পিকে হিট্টি লিখেছেন, সেই সময় যদি ইসলামের বলিষ্ট খলিফা হযরত আবু বকর (রাঃ) না থাকতেন, তখন বেদুইন গোত্রদের সাথে মিশে গিয়ে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ওফাতের পর ইসলাম ধর্ম অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে যেত (ঐধফ ঃযবৎব নববহ হড় ঐধুৎধঃ অনঁ ইধশবৎ (জ.) ওংষধস ড়িঁষফ সধষঃবফ ধিু পড়সঢ়ৎড়সরংব রিঃয ঃযব নবফ রিহ ঃৎরনবং)।

এত কিছুর পর আজও গোটা দুনিয়ায় যেমনিভাবে অব্যাহত চক্রান্ত, ষড়যন্ত্রের পর যেমনি ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটছে তেমনি মুসলমানদের গৌরবও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা দেখে দুনিয়ার বিভিন্ন অমুসলীম দেশ যেমনিভাবে হিংসার জ্বালায় কাতরাচ্ছে তেমনিভাবে কিছু মুসলীম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অমুসলীম দেশের ষড়যন্ত্র, ইন্দন ও বিভিন্ন টোপে মুসলমানদের বিরুদ্ধে মোনাফিকি ও স্ববিরোধী ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। যে জ্বালা ও ব্যাথা মনে মানে না, প্রাণে সহেনা। ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকারে বাধা, মুসলমানদের পবিত্র জেরুজালেম ও আল আকসা অবরোধ করে রাখলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধারা

জীবন মরণ সংগ্রাম করে তা উদ্ধারের জন্য প্রাণপন প্রচেষ্টা চলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এ ব্যাপারে ইসরাইলের সাথে হাত মিলিয়েছে সৌদি আরবসহ আরও কয়েকটি মুসলীম রাষ্ট্র। তা না হলে ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল কোনো অবস্থাতেই ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবী মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। যেখানে এসব মুসলীম রাষ্ট্রের ইসরাইল প্রীতির চেয়ে ট্রাম্প প্রীতিই বড় করে দেখা দিয়েছে।

দেশী বিদেশী প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে দুনিয়ার অনেক অমুসলীম রাষ্ট্র মুসলমানদের দমিয়ে রাখার জন্য একটার পর একটা ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও মুসলীম নিধনে যেন মহাযজ্ঞ শুরু করে দিয়েছে। মুসলমানদের যেন সে ব্যথা বেদনার শেষ নেই। মিয়ানমার, ভারত, শ্রীলংকা ও চীনে এর কুরুচিপূর্ণ নির্মমতার দৃশ্যপট লক্ষ্য করা যায়। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মুসলমানদের কোনো দোষ না থাকলেও যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী মুসলীম নারী-পুরুষ এমনকি কোলের শিশুদেরকেও নির্মমভাবে প্রকাশ্যে হত্যা, নির্যাতন, আগুনে ফেলে পুড়িয়ে হত্যা, নারী নির্যাতন, ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে, সহায় সম্পদ লুন্ঠন করে বিবস্ত্র অবস্থায় তাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে এমন অবস্থায় প্রায় ১১ লাখ মিয়ানমারের অসহায় রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও মিয়ানমারের মুসলমানদের ওপর অকথ্য অত্যাচার, নির্যাতন থেমে না থাকার কারণে প্রতিদিন মিয়ানমারের মুসলমানরা বাংলাদেশে আসা অব্যাহত রয়েছে।

ইতিপূর্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছে গরুর মাংস খাওয়া ও গরু জবাইকে কেন্দ্র করে। এ অপরাধে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আর এবার বিজেপি ক্ষমতায় এসে দাড়ি, টুপি ও মুসলমান হওয়ার কারণে চরম অত্যাচার করা হচ্ছে এবং অনেককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। ভারতের পূর্বাঞ্চল প্রদেশ ঝাড়খন্ডে ১৮ জুন ২৪ বছর বয়স্ক তাবরেজ আনসারী নামক এক মুসলমান যুবককে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করলে পুলিশ হেফাজতে তাকে নিয়ে গেলে ২২ জুন আনসারী মৃত্যুবরণ করে। ১৫ বছর আগে তাবরেজ আনসারীর পিতা মাসরুক আনসারীকেও ২০০৪ সালে দাঙ্গাবাজরা নির্মম ও নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে থাকে। ভারতের ঝাড়খন্ডে গত ৪ বছরে ১২ জন মুসলমানকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। অনেককে ধরে নিয়ে জয়শ্রীরাম ও জয় হনুমান বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। যারা তা বলছে না তাদেরকে নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন করে প্রকাশ্যে হত্যা করা হচ্ছে।

এ যাবৎ এ ধরণের মুসলীম বিরোধী লোমহর্ষক সাম্প্রদায়িক ঘটনা মূলত ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজস্থান কিংবা ঝাড়খন্ডে কেন্দ্রীভূত থাকলেও ভারতের এবারের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আদিউক্ত হিন্দুত্ব সংঘের নোংরা ও কুৎসিৎ চেহারা দিবালোকের মতো বেড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি কলকাতার এক টেলিভিশন সংবাদ চ্যানেলের মাধ্যমে জানা যায়, ছুটি শেষে কর্মস্থল হুগলীতে ফেরার পথে ট্রেনের কামরায় উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন হিন্দু সংঘতির কিছু কর্মী শাহরুখ হাওলাদার নামক মাদ্রাসা শিক্ষকের কাছে যায়। মাথায় টুপি ও মুখে দাড়ি দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করে মুখে দাড়ি এবং মাথায় টুপি কেন পড়েছে। শুধু তাই নয় মুখে দাড়ি ও মাথায় টুপি পড়লে তাকে পশ্চিমবঙ্গে থাকতে দেয়া হবে না বলে হুমকিও দেয়া হয়ে থাকে। তারপর উক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে “জয়শ্রীরাম ও জয় হনুমান” বলতে বললে সে জয় শ্রীরাম ও জয় হনুমান বলতে অস্বীকার করে। এতে ওরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেদম মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে ট্রেনটি যখন পার্ক সার্কাস রেল স্টেশন ক্রস করছিল তখন ওরা মাদ্রাসার এই শিক্ষককে লাথি মেরে স্টেশনের প্লাটফর্মে ফেলে দেয়। এ রকম অসংখ্য ঘটনার ভিডিও যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সয়লাব হয়ে আছে। এছাড়া ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লেখা এক চিঠিতে প্রভাবশালী এমপি জোনাথান অ্যাশওয়ার্থ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে ভারতে মুসলীমদের ওপর চলমান বিদ্বেষ ও সহিংস আক্রমন অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে হত্যাকান্ড, হামলা, আক্রমন, সম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বৈষম্য, ঘরবাড়ী ভাংচুর, ব্যক্তির ধর্ম বিশ্বাস ও প্রার্থনায় বাধা প্রদান প্রভৃতি ঘটনার সুস্পষ্ট রিপোর্ট রয়েছে (খবর দ্যা ইন্ডিপেনডেন্টের)। বেশ কিছুদিন আগে ভারতের টিভিতেও ড. জাকির নায়েক ও কয়েকজন ইসলাম ধর্ম নিয়ে আলোচনা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে আসছিল। যার ফলে ভারতসহ দুনিয়ার অনেক অমুসলীম এবং খ্রিস্টান পাত্রীরাও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়। ড. জাকির নায়েকের বয়ানের কারণে ১৯৯৬ সালে ১৬০০ শতকের বাবরী মসজিদ ভাঙতে যারা হাতুড়ি, বাটাল, শাবল চালিয়ে ছিল, তারাও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়। ভারত সরকার এসব সহ্য করতে না পেরে ড. জাকির নায়েককে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভারত থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। যা ধর্ম নিরপেক্ষতার লংঘন ও সাম্প্রদায়ীকতার সুস্পষ্ট প্রকাশ। আজ ড. জাকির নায়েককে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা দিয়ে মালয়েশিয়ায় আজীবন থাকার জন্য মালয়েশিয়ার সরকার প্রধান ড. মাহাথির মোহাম্মদ আহবান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত শ্রীলংকা ও মিয়ানমার জুড়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী চরমপন্থি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের একটি বিশালচক্র সংখ্যালঘু মুসলীম ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে। যারা বৌদ্ধ ধর্মের রক্ষক

হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রীলংকার থেরবাদে বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী একটি গোষ্ঠির নাম বধুবালা সেনা। দেশটিতে বধুবালা সেনা ও রাবন বলয়া জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠিগুলো শ্রীলংকার সংখ্যালঘু মুসলীমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালাচ্ছে। ভিক্ষু আম্বালাং গোদা, সূমেনান্দ থেরো ও ভিক্ষু গালাগোদা আথে নানা সেয়া থেরোর মতো উগ্রবাদী ভিক্ষুরা সহিংসতায় সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। টাইমস অব আমেরিকার খবরে আরও জানা যায়, সম্প্রতি শ্রীলংকার এক প্যাগোডার এক সমাবেশে তারা বলে, মুসলীমরা সহিংস ও তারা লোলুপ ধর্ষক। এবার তারা আমাদের দেশ ও মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি ধ্বংস করতে চায়। সম্প্রতি শ্রীলংকায় বোমা হামলার পরবর্তী সময়ে উদ্র বৌদ্ধরা মুসলমানদের বাড়ীঘর, দোকানপাট ও অফিসে হামলা চালালে পুলিশ সাক্ষী গোপালের ভূমিকা পালন করে। বিতর্কিত বৌদ্ধ ভিক্ষু উইরামু মসজিদকে শত্রুর ঘাঁটি ও মুসলীমদেরকে পাগলা কুকুর বলে আখ্যায়িত করে থাকে। এছাড়া মুসলীমদের চোর ও বর্মী (মিয়ানমার) মহিলাদের ধর্ষণ ও গণহারে জন্ম দিয়ে খুব দ্রুত নিজেদের বিস্তার ঘটাচ্ছে বলেও মন্তব্য করে থাকে। শ্রীলংকায় সন্ত্রাসী বোমা হামলার ঘটনার পর মুসলমানদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও হামলার ঘটনা বেড়েছে। ২০টি মসজিদে হামলা চালিয়েছে চরমপন্থি বৌদ্ধরা। পাশাপাশি খ্রিষ্টানদের চার্চেও হামলা চালানো হচ্ছে। মোদ্দাকথা শ্রীলংকা ও মিয়ানমারের উগ্রপন্থি বৌদ্ধরা বিনা কারণে ও বিনা বাধায় মুসলমানদের ওপর একটার পর একটা নারকীয় ও নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েই চলছে।

চীনের জিন জিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলীমসহ অন্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের প্রতিবাদে সম্প্রতি জাতিসংঘে ২২টি দেশের রাষ্ট্রদূত নিন্দা জানিয়েছে। তারা যৌথ এক চিঠিতে মুসলীম সংখ্যালঘুদের স্বাধীনভাবে চীনে চলাচলের জন্য জাতিসংঘের কাছে আহবান জানিয়েছে। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাতে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানী, জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ ২২টি দেশের রাষ্ট্রদূতগণ এ আহবান জানান। জানা যায়, চীনের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ জিং জিয়াংয়ে বসবাসকারীদের মধ্যে বেশীর ভাগই উইঘুর মুসলীম। কিন্তু চীন সরকার তাদের বিরুদ্ধে নানা রকম নিষ্পেশন চালাচ্ছে। প্রায় ১০ লাখ উইঘুর মুসলমান বিভিন্ন বন্দী শিবিরে আটক রয়েছে। বিদেশী সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যম যাতে তাদের খবরাখবর ও সংবাদ সংগ্রহ করতে না পারে সেজন্য ২৪ ঘন্টা নজর রাখা হয় বলেও সংবাদ সংস্থা এএফপির সূত্রে জানা যায়।

ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ভারত, শ্রীলংকা, মিয়ানমার ও চীনে অমুসলীমরা যে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, নৃশংসতা ও নির্যাতনের উম্মাদনা চালাচ্ছে অনেকেই মনে করে এসব থেকে মুসলীমদের রক্ষা পেতে হলে দুনিয়ার সকল মুসলীম রাষ্ট্র এক জোট হয়ে জোরালো প্রতিবাদ করা দরকার। এছাড়া যে সমস্ত মুসলীম রাষ্ট্র ইসরাইলসহ অন্যান্য অমুসলীম রাষ্ট্রের স্বার্থে এবং মুসলীমদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তাদেরকে প্রভুর মতো দেখে আসছে এখান থেকেও সরে আসতে হবে। মুসলমানদের আবির্ভাব থেকে এ পর্যন্ত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মুসলীমরা বীরের জাতি। মুসলমান কারও প্রতি মুখাপেক্ষি হওয়ার জাতি নহে। মুসলমানদের পূর্বাপর গৌরব ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে সামনে চলাই হোক আমাদের পাথেয়। বিভিন্ন ঘটন, অঘটন পটিয়াসি ষড়যন্ত্রকারীরা ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, নির্যাতন করে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার যেমন রুখতে পারেনি তেমনি সারা দুনিয়ায় সত্য শান্তির ধর্ম ইসলামের সুমহান আদর্শে দীক্ষিত হয়ে কলেমা তৈয়্যবা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ ও সাম্য, সুন্দর, ধর্ম নিরপেক্ষতার বাণী লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়াদীন প্রতিষ্ঠা ও উচ্চারণে মুসলমানদের জয়যাত্রা যাতে অব্যাহত থাকে ইহাই প্রতাশ্যা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা হচ্ছে, সারা দুনিয়ায় আমাদের বন্ধু আছে প্রভু নেই। এছাড়া ইসলামের সুমহান শিক্ষা হচ্ছে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠি ও রাষ্ট্রের তাবেদারী নহে, আল্লাহ, রাসুল (সাঃ) এবং কোরআনের অনুসৃত পথকে বিকশিত ও উদ্ভাসিত করে সামনে এগিয়ে চলা। ইসলাম শান্তির ধর্ম। মুসলমান দুনিয়ার সকলের সাথে সুভ্রাতৃত্বের আদর্শে বিশ্বাসী। কালো, সাদা, বর্ণ, ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে কারও সাথে কোনো ভেদাভেদ ও হিংসা বিদ্বেষের দিক দর্শনে বিশ্বাস করেনা। মুসলমানদের বড় শক্তি সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি অবিচল ঈমান, আস্থা, আকীকা ও বিশ্বাস।

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.