লোহাগড়ায় ধর্ষণে কিশোরী ৭ মাসের অন্তঃস্বত্বা ধর্ষক পলাতক হলেও সহযোগী মহিলা আটক

নড়াইল প্রতিনিধি ঃ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চাচই গ্রামে একজন লম্পট যুবকের ধর্ষণের ফলে কিশোরী ৭ মাসের অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর ওই কিশোরীর পিতা কাদের শেখ বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ধর্ষিতা কিশোরীকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে তার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং ওই কিশোরী আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে। তবে মামলা দায়েরের পর লম্পট নাহিদ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও পুলিশ ধর্ষণ ঘটনার সহযোগী সুফিয়া বেগমকে গ্রেফতার করেছে।

থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই গ্রামের নাসির শেখের লম্পট ছেলে নাহিদ শেখ (১৯) একই গ্রামের আঃ কাদের শেখের কিশোরী মেয়ে (১৫)’র সাথে প্রায় দেড় বছর পুর্বে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারী চাচই গ্রামের মুক্তার শেখের বাড়িতে নিয়ে তার স্ত্রী সুফিয়া বেগমের সহযোগিতায় ঘরের মধ্যে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে এবং এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয়।

ধর্ষক নাহিদের হুমকিতে কিশোরী ধর্ষনের ঘটনা চেপে যায়। পরবর্তীতে ধর্ষিতা কিশোরীর শারিরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে গত ২১ জুলাই ধর্ষণের ঘটনাটি তার অভিভাবকদের জানায়। কিশোরীর অভিভাবকরা লম্পট নাহিদের পিতা-মাতাকে ধর্ষণের ঘটনা জানালে তারা কিশোরীর গর্ভপাত ঘটানোর জন্য মোটা অংকের টাকা দেয়ার প্রলোভন দেয় এবং গর্ভপাত না করলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে মর্মে হুমকি দেয়। নিরুপায় হয়ে ওই কিশোরীর পিতা আঃ কাদের শেখ বাদী হয়ে নাহিদকে প্রধান আসামী করে লোহাগড়া থানায় গত ২৫ জুলাই রাতে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার এসআই মিল্টন কুমার দেবদাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতেই ধর্ষিতা কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। গত শনিবার বিকালে নড়াইল সদর হাসপাতালে ওই কিশোরীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন শেষে সন্ধ্যায় ওই কিশোরী বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমাতুল মোর্শেদার আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে। পুলিশ ধর্ষণে সহযোগিতা করায় সুফিয়া বেগমকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে এবং গতকাল শনিবার বিকালে গ্রেফতারকৃত ওই সহযোগি বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমাতুল মোর্শেদার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী শেষে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার এসআই মিল্টন কুমার দেবদাস জানান,আসামী নাহিদ শেখ গা ঢাকা দিয়েছে এবং তাকে আটকের জোর চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.