পূর্বধলায় যানজট এখন নিত্য দিনের সঙ্গী

সাদ্দাম হোসেন, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার পূর্বধলা সদর এলাকা পূর্বধলা-হোগলা সড়কে যানজট যেন এখন নিত্য দিনের সঙ্গী। প্রতিদিনের এ যানজট থাকার কারণে যাত্রীসহ সাধারণ মানুষেরা চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন। অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

এ দীর্ঘ যানযটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা গেছে, রাস্তার নির্মাণ কাজ, যেখানে সেখানে যাত্রী উঠানামা, চালকরা নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানো, হাটবাজারে লোড-আনলোড, সড়কের দু’পাশে হাট বাজার বসানো। নিত্য দিনের এ যানজটের কারণে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। পরিবহন চালক, যাত্রী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয় এবং যানজট সৃষ্টি হয়ে যায়।

পূর্বধলা বাজার বণিক সমিটির সাধারণ সম্পাদক সঞ্চিত চন্দ্র কর জানান, প্রতি রবিবার ও বৃহস্পতিবার পূর্বধলা মধ্য বাজারের প্রধান সড়কে জামতলায় রাস্তার দু’পাশে হাট বসে। তরিতরকারি সহ ক্রয়-বিক্রয় করতে সাধারণ মানুষের ভীড় জমে রাস্তায়। এছাড়া সড়কে নিয়ম-কানুন না মেনে রিক্সা রাখার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হলে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। পূর্বধলা প্রধান সড়ক হওয়ায় যানবাহনের চাপ অনেক বেশি।

এস.এম ওয়াদুদ জানান, মালামাল আনা নেয়ার জন্য এখানে প্রতিদিন অতিরিক্ত গাড়ি এখানে রাখা হয়। নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা নেয়া না থাকার কারণে বাধ্য হয়েই চালকদেরকে গাড়ি রাস্তায় রাখতে হচ্ছে। রাস্তায় গাড়ি রাখার ফলে রাস্তা প্রায় অর্ধেকটা দখল হয়ে যাওয়ায় অন্যান্য গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। এতে করে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানযটের ভোগাস্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

পূর্বধলা ডিগ্রী কলেজ ও পূর্বধলা জে.এম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদিনের এ দীর্ঘ যানজটের ফলে প্রতিদিনই তাদেরকে স্কুলে যেতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। সময় মত স্কুলে না পৌঁছাতে পারলে তাদেরকে স্যারদের কাছে জবাব দিহি করতে হয়।

এক চাকরিজীবী জানান, তিনি স্বল্প বেতনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। এ দীর্ঘ যানজটের কারণে তাকে প্রতিদিনই দেরি করে অফিসে পৌঁছাতে হচ্ছে। দীর্ঘ যানজট থাকার কারণে প্রতিদিন তাকে ১ থেকে ২ ঘণ্টা দেরী করে অফিসে যেতে হচ্ছে। দেরি করে অফিসে যাওয়ায় তাকে উপর মহলের কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন জানান, প্রতিদিনের এই যানজটের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ভুগছে হচ্ছে। আমি দ্রুত হাটের দিনে রাস্তার পাশে বসানো অবৈধ্য কাঁচা বাজার অন্যত্র সরিয়ে যানজট নিরসরে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি এবং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে আমি নিজেই ড্রেনগুলো পরিষ্কার করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.