গফরগাঁওয়ে মাদ্রাসা ছাত্রী মিনহা’র উপর এসিড হামলার প্রতিবাদে সভা ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা ঃ  ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পাঁচবাগ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ফাজিল ১ম বর্ষের মেধাবী ছাত্রী মিনহা রাফিদা খান (১৮) এর উপর দুস্কৃতকারীদের এসিড হামলার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার সকালে পাঁচবাগ ইউনিয়ন পরিষদ সড়কের সামনে এক প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল ১১টায় উপজেলার পাঁচবাগ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, পাঁচবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচবাগ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, এডভোকেট শাহাব উদ্দিন কলেজ, পাঁচবাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচবাগ বালিকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাঁখচূড়া উচ্চ বিদ্যালয়, লামকাইন উচ্চ বিদ্যালয়, লামকাইন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও লামকাইন কে.এ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষকমন্ডলী, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে এক কিলোমিটার জুড়ে এ মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করে। প্রায় ১ ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন পাঁচবাগ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ রইছ উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক এস.এম ওয়াহিদুজ্জামান, এডভোকেট শাহাব উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ এ.কে.এম মাহমুদ হোসেন সেলিম, প্রভাষক ইমরান হোসেন, পাঁচবাগ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের লামকাইন উচ্চ বিদ্যালয় হাফিজুল হক ফেরদৌস, পাঁচবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন, সহকারী শিক্ষক সারোয়ার জাহান বাহার, লামকাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হেলাল উদ্দিন, শাঁখচূড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহ আকবর হোসাইন, পাঁচবাগ ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন-আহবায়ক সাইদুল ইসলাম, পাঁচবাগ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক আল মোমিন শিকদার, পাঁচবাগ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক মাহমুদুল হাসান ও এসিডদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রীর ভাই নজুমদ্দিন খান আকিব প্রমূখ। বক্তারা অবিলম্বে মাদ্রাসা ছাত্রীর উপর এসিড হামলার দুস্কৃতকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।
প্রকাশ থাকে যে, প্রকাশ থাকে যে, গত শনিবার মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরায় পথে পাঁচবাগ-গফরগাঁও সড়কে তারাটিয়া গ্রামের জনৈক ছফির উদ্দিনের বাড়ি সামনে অজ্ঞাতনামা দুই মোটরসাইকেল আরোহী দুস্কৃতকারী মিনহা রাফিদা খান এর মুখে এসিড নিক্ষেপ করে। এতে তার মুখের নীচের অংশ ও বাম হাতের একাংশ ঝলসে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে পাশর্^বর্তী হোসেনপুর উপজেলা হাসপাতালে এবং পরে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থায় আশংকাজনক। এ ঘটনায় এলাকায় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে পাঠানো নিয়ে আতংকে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.