বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় মুক্তির ৫ম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন

 

আয়নাল হক, ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম :

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ছিটমহলবাসীর মুক্তির ৫ম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন করা হয়েছে। ৩১ জুলাই রাত সাড়ে এগারোটায় দাসিয়ারছড়ার কালিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি দাসিয়ারছড়া শাখার সভাপতি আলতাফ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি জাফর আলী। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফুলবাড়ী উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শাহজাহান মিঞা বাদশা, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুবকর সিদ্দিক মিলন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এমদাদুল হক, দাসিয়ারছড়া আ’লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আলম প্রমূখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সেরা। রাত ১২টা ১ মিনিটে ছিটমহলবাসীর মুক্তির আলোকে ছড়িয়ে দেয়ার মানসে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে ৫ম বর্ষ পূর্তির প্রথম প্রহরটি উদ্যাপন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলী। এ সময় ছিটমহলবাসীর মুক্তিদাতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছিটমহল ও দেশবাসীর কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন কুড়িগ্রাম আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নূর বখ্ত। এর আগে রাত ৯টায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে আলোচনা সভার পরবর্তী সময় পর্যন্ত। দুইদিন ব্যাপি এই বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দাসিয়ারছড়া ইউনিট আ’লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিটে ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকর হলে মুক্তির স্বাদ পায় ছিটমহলবাসী। কাটে তাদের দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দীদশা। এর জন্য ছিটমহলবাসীকে বছরের পর বছর করতে হয়েছে ছিটমহল বিনিময়ের আন্দোলন। অবশেষে ’৭৪ এর মুজিব ইন্দিরা চুক্তির আলোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদীর প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালের এই দিনটিতে বাস্তবায়িত হয় ছিটবাসীর মুক্তির সনদ। বিনিময়ের পর ছিটমহলগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয়েছে। গড়ে উঠেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজ, কমিউনিটি ক্লিনিক, হাট বাজার। নির্মিত হয়েছে মসজিদ, মন্দির, ব্রিজ, কালভার্ট, পাকা সড়ক, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ইন্টারনেট সংযোগ। প্রতিটি ঘরে পৌছে দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ। প্রতিটি পরিবারে পৌছে দেয়া হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সরকারি সহায়তা। সম্প্রসারণ হয়েছে কৃষি ও ব্যবসা বাণিজ্যের। এক সময়ের অন্ধকারাচ্ছন্ন সন্ত্রাস ও মাদকের আতুরঘর ছিটমহল দাসিয়ারছড়া এখন আলোয় উদ্ভাসিত এক জনপদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.