মহেশখালীর জমিদার বাড়ী বেহাল দশা ধ্বসে পড়ে প্রাণহানির আশংকা

আবুল বশর পারভেজ ঃমহেশখালীর প্রাচীন দর্শনীয় স্থান তৎকালীর জমিদার বাড়ী। এখন এ বাড়ী অযতœ অবহেলায় মৃত্যু পুরীতে পরিনত হয়েছে। মহেশখালী দ্বীপের জমিদার ফ্রসন্ন কুমার রায় বাহাদুরের পুত্র অজিত কুমার রায় বাহাদুরের কাচারী বাড়িটি অনেক দিন উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারীগণ আবাসিকভাবে ব্যবহার করে আসছিল।
এক সময়ের সমগ্র মহেশখালী দ্বীপের জমিদারের কাচারী বাড়ী নামে পরিচিত বাড়ীটির মাঠির দেওয়াল গুলি অনেক দিন দিন ক্ষয় হতে হতে এখন আর সেই বাড়ীর সৌন্দর্য্য হারিয়ে বিলুপ্তির পথে।
প্রশাসনিক উদ্দ্যোগ গ্রহণ করলে কাচারী বাড়ীটি দর্শনীয় স্থানে পরিনত করা যেত।
গ্রীষ্ম মৌসুমে শেষে বর্র্ষার আগম হলে প্রতি বছর একেকটি দেওয়াল ভেঙ্গে পড়ে। ভেঙ্গে পড়া কংকাল সর্বস্থ কাচারী রাড়ী রাতের আধারে ইয়াবা ও হিরোইন সেবী মাদকাসক্তদের আস্তানায় পরিনত হয়। দিনের বেলায় উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন সহ স্থানীয় রাখাইন পাড়ার বার্মিজ সরকারী প্রাথসিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীরা জরাঝির্ণ কাচারী বাড়ীর সামনে হাটা চলা করে। মহেশখালী পৌরসভার নির্বাচনে কাচারী বাড়িটি ৭নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করলেও পরবর্তীতে প্রশাসন বা পৌর কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার সংস্থার বা রক্ষনা বেক্ষনের উদ্দ্যোগ গ্রহণ করে না। বাজার এলাকার জলদাশ পাড়া ও ডাকবাংলো পাড়া, সরকার পাড়া, মখলেছুর রহমান পাড়া সহ বাজারে বিভিন্ন প্রতিষ্টানের কর্মচারীগণ ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার আসর জমায়। অনেক স্কুল ছাত্ররা জরাঝির্ণ কাচারী বাড়িতে বাইসাইকেল,স্কুল ব্যাগ,বই লুকিয়ে রাখে কাচারীর ভিতরের মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলায় সময় কাটিয়ে স্কুল ছুটি হলে বাড়ীফিরে।সবচেয়ে ভয় ও আতংকের বিষয় হল বৃষ্টিতে ভেজা মাঠির দেওয়ার যে কোন সময় ভেঙ্গে স্কুল ছাত্র, খেলোয়াড় পথচারীরগণ আহত ও নিহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গোরকঘাটা বাজারে ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন এই কাচারী বাড়ীর মাঠ মহেশখালীর অনেক রাজনৈতিক ইতিহাসের স্বাক্ষী। সময়ে অধিকার আদায়ের জন্য অনেক নেতা,রাজনৈতিক দল, স্থানীয় জন মানুষের ন্যায্য দাবীর কাজে কাচারী বাড়ীর মাঠ খানি ব্যবহার করত। অন্তত ৩০ বছর পর্যন্ত মাঠটি আর কোন কাজে ব্যবহার হচ্ছেনা। স্থানীয় পারিবারিক রাজনৈতিক দন্ধের সুযোগে মাঠে কিছু গাছ রোপন করে আর ব্যবহার কারা যাচ্ছেনা। বর্তমান মহেশখালী উপজেলা জনসভা, প্রতিবাদ সভা, নির্বাচনী সভা সমাবেশ করার মাঠ নেই। এ মাঠে বাৎসরিক মাহাফিল হত হাজার হাজার ধর্ম প্রাণ মুসলমানদের সমাগম হত এখন আর সেই স্মৃতি চিহ্ন আর নেই।
মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের নিকট স্থানীয় জনগণের একান্ত দাবী মহেশখালীর জমিদারের স্মৃতি বিজড়িত কাচারী বাড়ির দেওয়াল ধ্বসে পড়ে প্রাণহানী বা হতহাতের পূর্বে ঝুকির্পর্ন ভবনটি সরিয়ে নিয়ে একটি জনগণের ভূ-সম্পত্তির ডকুমেন্ট সংরক্ষণের জন্য রেকর্ড রুম স্থাপন করলে সাধারণ মানুষের কল্যাণে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.