টিকিট কাটতে ২২ ঘণ্টা আগেই লাইনে

ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিন আজ। ২৯ জুলাই থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। আজ ১১ আগস্টের টিকিট দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার ১০ আগস্টের টিকিট দেয়া হয়।

১৮-২০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনলাইন-রেলঅ্যাপসে সময় দিয়েও অনেকে টিকিট কাটতে পারেননি। এদিকে লাইনে দাঁড়িয়ে যারা ১০ আগস্টের টিকিট পাননি তাদের অধিকাংশই ১১ আগস্টের টিকিটের জন্য পুনরায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কমলাপুর স্টেশন ছাড়াও বিমানবন্দর স্টেশন, বনানী স্টেশন, তেজগাঁও স্টেশন ও ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেল ভবন) থেকে টিকিট দেয়া হচ্ছে। শেষ দিনের অগ্রিম টিকিট কাটতে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই টিকিট প্রত্যাশীদের লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে।

এদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কেবিন বা এসি চেয়ারের সিট খুবই কম। একেকজন চারটি করে এসি চেয়ার বা কেবিন সিটের টিকিট কাটতে পারেন। যাত্রীরা তা কাটছেনও। কিন্তু ভুক্তভোগীরা বলছেন, কাউন্টারের একেবারে সামনে দাঁড়িয়েও কাক্সিক্ষত টিকিট কাটতে পারেননি তারা। তাদের অভিযোগ, ভিআইপির নামে মন্ত্রী, এমপি, সচিব, বিচারপতি ও রেলওয়ে কর্মকর্তাদের নামে এসব টিকিট ব্লক করে রাখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে মহাপরিচালক শামছুজ্জামান যুগান্তরকে জানান, এবার ভিআইপিদের নামে কোনো টিকিট নেই। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কেবল মন্ত্রী, এমপি, সচিব ও বিচারপতিদের নামে টিকিট বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। তবে যেসব মন্ত্রী, এমপি, সচিব, বিচারপতিরা নিজে এবং পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করবেন শুধু তারাই এ টিকিট কাটতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই যেন এর বাইরে কাউকে টিকিট না দেয়া হয় সেজন্য রেলপথ মন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সীমিত টিকিটের বিপরীতে ৪-৫ গুণ যাত্রী কাউন্টারে অবস্থান করায় অনেকে টিকিট পাচ্ছেন না। কাউন্টার থেকে যথাযথ নিয়মে টিকিট দেয়া হচ্ছে। সবাইকে টিকিট দেয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, শুক্রবার অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিন। কমলাপুর ও চারটি স্টেশন থেকে সুষ্ঠুভাবে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট প্রত্যাশীদের উপস্থিতি ছিল আগের যে কোনো দিনের চেয়ে বেশি। এ দিন লাইনে দাঁড়ানো অধিকাংশ মানুষ টিকিট কাটতে পারেননি। বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটতে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম সাজু জানান, কাউন্টারের সামনে লাইনের তিনজনের পেছনে ছিলেন তিনি। এসি চেয়ার চেয়েও তিনি পাননি, বাধ্য হয়ে শোভন চেয়ারের টিকিট কাটেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ে এক কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রী, এমপি, সচিব, বিচারপতি বা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে যে টিকিটের চাহিদাপত্র আসছে সবই কেবিন ও এসি চেয়ারের সিট। ফলে টিকিট বিক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ের কর্মকর্তারা বাধ্য হয়ে কেবিন ও এসি চেয়ারের সিট রেখে দিচ্ছেন। ভিআইপিদের নামে টিকিট নেই- এমনটা বললেও শত শত টিকিট রেখে দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাবানরা টিকিটের জন্য সংশ্লিষ্টদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, টিকিট বিক্রয়ে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। যাদের নামে টিকিট রাখার কথা তা মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে রাখা হচ্ছে। তাদের চাহিদাপত্র আমরা যাচাই-বাছাই করে টিকিট ইস্যু করব। যারা নিজে ভ্রমণ করবেন না তাদের টিকিট না দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা রয়েছে। এরপরও সাধারণ মানুষ কেন কেবিন-এসি চেয়ার সিট কাটতে পারছেন না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা হিসাব করে করে অনলাইন, রেলঅ্যাপস ও কাউন্টারে টিকিট ছাড়ছি। যেখানে কেবিন, এসি চেয়ারের সিটও রয়েছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক জুয়েল জানান, বৃহস্পতিবার কমলাপুর ও আরও চারটি স্থান থেকে ২৭ হাজার ৮৮৫টি অগ্রিম টিকিট ছাড়া হয়। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৯৪৩টি টিকিট কাউন্টার, ১৩ হাজার ৯৪২টি টিকিট অনলাইন ও রেলসেবা অ্যাপসে ছাড়া হয়েছে। তিনি বলেন, বেশিরভাগ যাত্রী কেবিন ও এসি চেয়ারের টিকিট নিতে চান। কিন্তু কেবিন ও এসি টিকিটের স্বল্পতার কারণে সবাইকে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.