রাঙ্গুনিয়ার নিজ গ্রামেই শায়িত হলেন সৈয়দা আকতার

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: নিজ গ্রামেই চির নিদ্রায় শায়িত হলেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি শাহাবুদ্দিন কোরেশীর পত্নী সৈয়দা আকতার। সোমবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিযনের নজরের টিলা জামে মসজিদ মাঠে নামাজের জানাজা শেষে তাঁকে মসজিদের কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর স্বামী শাহাবুদ্দিন কোরেশী নিজেই জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। এ সময় জানাজার নামাজে অংশ নেন চট্টগ্রামের ডিআইজি গোলাম ফারুক, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা, চট্টগ্রামের এডিশনাল ডিআইজি ফয়েজ আহমদ। এছাড়াও আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ জানাজায় অংশ নেন।
এদিকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন মসজিদ মাঠে সকাল ১১টায় মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেল ৫টায় মরহুমের লাশ নিজ গ্রাম উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নের নজরের টিলা গ্রামে নিয়ে আসা হয়। এ সময় উপস্থিত গ্রামবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েন। গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ তাঁকে এক নজর দেখার জন্যে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। লাশ আসার খবরে দূর দূরান্ত থেকে দলে দলে ছুটে আসতে থাকে মানুষ। মুহূর্তেই লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় নজরের টিলা নামের ছোট্ট গ্রামটি। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁকে চিরকালের মতো শুয়ে দেয়া হয় জীবনের শেষ ঠিকানা মাটির ঘর নামের অন্ধকার কবরে। এরপর মরহুমের রূহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন তাঁর স্বামী শাহাবুদ্দিন কোরেশী।
উলে­খ্য, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি শাহাবুদ্দিন কোরেশীর পত্নী সৈয়দা আকতার (৫৪) গত মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) জ্বর অনুভব করলে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে শনিবার (৩ আগস্ট) সকালে তাঁকে প্রথমে শরমিতা হাসপাতাল পরে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই রবিবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় তাঁর স্বামী দেশে চিলেন না। তিনি সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। সোমবার সকাল ১০টায় তিনি দেশে আসার পর তাঁর স্ত্রীকে দেশের বাড়িতে কবর দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। এরপর ঢাকায় ১ম জানাজা শেষে তাঁকে দেশের বাড়িতে আনা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, ১ মেয়ে, ৩ ছেলে ও অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে যান। কোরেশী দম্পতির ৪ সন্তানের মধ্যে একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তিন ছেলের বড় ছেলে সদ্যসমাপ্ত বিসিএস প্রিলিমিনারী উত্তীর্ণ। মেঝ ছেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ও ছোট ছেলে ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.