জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্ম ও জীবন ( ৮ম পর্ব) –

প্রদীপ কুমার দেবনাথ     

অর্থনৈতিক নীতি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাঃ 
সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের সাথে সাথে মুজিব সরকার গুরুতর সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যার মধ্যে ছিল –
১। ১৯৭১ সালে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া লক্ষ লক্ষ শরনার্থীর পুনর্বাসন,
২। কোটি কোটি লোকের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা উপকরণ সরবরাহ  ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি।
৩। বামপন্থীদের ক্ষমতার লোভ ও বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থাগ্রহণ।
৪। প্রত্যেকটি খাতকে পৃথকীকরণ ও দপ্তর অনুযায়ী কর্মবন্টন।
৫। শরনার্থীদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করণ,
৬। অবকাঠামো নির্মাণ, পাকিস্তান ও ভারত ফেরত বাঙ্গালীদের বন্দোবস্তোকরণ, রাষ্ট্র পরিচালনার রুপরেখা প্রস্তুতকরণ ইত্যাদি।
৭। বিদেশি মিত্রদের সাথে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে  যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক আদান-প্রদান, বিদেশে বাঙ্গালীদের কর্মসংস্থান, বাংলাদেশে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনে তাদের সাহায্য কামনা সহ সহস্রাধিক সমস্যা মুজিব সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে ওঠে।
  ১৯৭০-এর ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাব তখনো কাটেনি, এবং যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক অবস্থাও চরমভাবে ভেঙে পড়েছিল। অর্থনৈতিকভাবে, মুজিব একটি বিস্তৃত পরিসরের জাতীয়করণ কার্যক্রম হাতে নেন। বছর শেষ হতেই, হাজার হাজার বাঙালি পাকিস্তান থেকে চলে আসে, হাজার হাজার অবাঙ্গালি পাকিস্তানে অভিবাসিত হয়, এবং এরপরও হাজার হাজার মানুষ শরনার্থী ক্যাম্পগুলোতে রয়ে যায়। প্রায় ১ কোটি শরনার্থীকে পুনর্বাসন করার জন্য বৃহৎ সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে এবং দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষ হওয়ার আশঙ্কাকে প্রতিহত করা সম্ভব হয়।  ১৯৭৩ সালে কৃষি, নগর অবকাঠামো ও কুটিরশিল্পের উপর রাষ্ট্রীয় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পাঁচ-বছরের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় করণের মাধ্যমে বাংলাদেশ অল্প দিনের মধ্যেই দুর্দান্ত এগিয়ে যায় এবং এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় বাংলাদেশ তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে।  কিন্তু তারপরও ১৯৭৪ সালে চালের দাম আকষ্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে Bangladesh famine of 1974 একটি দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়। উক্ত দুর্ভিক্ষের মাসে রংপুর জেলায় খ্যাদ্যাভাব ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বামপন্থী ও সরকার বিরোধী সংগঠন সরকারের তীব্র সমালোচনা শুরু করে। তাদের প্ররোচনায়  সরকারের নিন্দুকেরা  অব্যবস্থাপনাকে  দোষারোপ করে । এসময় কুচক্রী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে শিল্পক্ষেত্রে গভীর ষড়যন্ত্র করে। আর তাই   মুজিবের শাসনামলে দেশবাসী শিল্পের অবনতি, ভারতীয়  শিল্পপতিদের দৌরাত্ম বেড়ে যায় এবং  বাংলাদেশি শিল্পের উপর ভারতের নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের তৈরি  জাল টাকা কেলেঙ্কারি প্রত্যক্ষ করে। এসব নিয়ন্ত্রণ, দমন ও সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নিবেদিত প্রাণ আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আলাদা সংগঠন গড়ে তুলেন জাতির জনক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.