হোসেনপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগ

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে দাপুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ মেহেরুন্নেছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা ওই অসাধু দূর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে জেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে লিখিত আবেদন করে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করে জরুরি প্রতিকার দাবি করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, উপজেলা শাহেদল ইউনিয়নের দাপুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোছাঃ মেহেরুন্নেছা হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষে কৌশলে স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্কুল ড্রেস দেওয়ার নামে প্রায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জনশ্রুতি রয়েছে। তাছাড়া ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঠ্যপুস্তক বিতরনের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা আদায়, সমাপনি শিক্ষার্থীদের প্রশংসাপত্রের জন্য ৫০টাকা ও সার্টিফিকেটের জন্য ১০০ টাকা আদায়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি আদায়, ২০১৭সাল থেকে ১৯ সাল পর্যন্ত (তিন) অর্থ বছরের স্কুল উন্নয়নে বরাদ্ধের টাকা (স্লিপ) ৭০ হাজার করে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, রুটিন মেন্টিনেন্সের ৪০ হাজার টাকা,প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্ধকৃত টাকা আতœসাত করেন। তাছাড়া, পাশের দোকানগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এহেন অপকর্ম যেন প্রকাশ না হয় তাই নতুন ম্যানেজিং কমিটির গঠনে নামের তালিকায় বিদ্যুৎসাহী পদে ক্যাচম্যান্ট এরিয়ার বাহিরে নিকটতম আতœীয়র নাম রাখা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের এইসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সুষ্পষ্ট প্রমানিত হওয়া সত্তেও অদ্যবধি কোন প্রতিকার না পাওয়ায় অভিভাবকসহ সাধারন মানুষের মাঝে দারুন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহ কালে দাপুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ মেহেরুন্নেছার জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যে,একটি কুচক্রি মহল স্কুলে সুনাম নষ্ট করার জন্য এবং আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ওঠে পড়ে লেগেছে।
তবে ওই স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত (ক্লাস্টার) উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহানারা আক্তার জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ড্রেসের টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্যতা পাওয়া গেছে,তবে তাদের টাকা ইতঃমধ্যে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তবে স্লিপের ১৭/১৮ অর্থ বছরের টাকার উত্তোলনের সময় ছুটিতে ছিলেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মোঃ সাদিকুর রহমান জানান, অভিযোগের প্রক্ষিতে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তদন্ত করেছেন, তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.