পানির অভাবে পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় লোহাগড়ার কৃষকরা

জহুরুল হক মিলু , নড়াইল প্রতিনিধি : ভরা বর্ষা মৌসুম পার হতে চললেও লোহাগড়ায় এখনো পর্যন্ত তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। তাই নদী, খাল, বিল ও ডোবা নালাতে পানির পরিমাণ খুবই কম। ফলে পাট কাটার পর জাগ দেয়া নিয়ে চাষিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। তারা বলছেন, বাধ্য হয়েই অল্প পানিতে পাট জাগ দিতে হচ্ছে।
অল্প পানিতে জাগ দিলে পাটের সোনালী রং কালচে বর্ণ ধারণ করে। যে রঙের কারণে বাজারে ভালো দাম মেলে না। তাই পাট নিয়ে তাদের চিন্তার শেষ নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর লোহাগড়া উপজেলা কার্যালয়ের কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস আমাদের প্রতিনিধি জহুরুল হক মিলুকে জানান, অনাবৃষ্টির কারণে নদী- নালা খাল- বিলে পানি না থাকায় চাষিদের বিকল্প হিসেবেপুকুর ও গর্তে এবং পাটের ছাল বের করে মাটির নিচে পুতে পাটের রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট জাগ দিতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষককে ১ মিটার গর্ত ও ৮ মিটার চওড়া করে সেখানে পাট প্রক্রিয়া করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
লোহাগড়া উপজেলার মরিচ পাশা গ্রামের কৃষক মোঃ আতিয়ার রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের নীচু জমিতে পানি থই থই করে। বৃষ্টির অভাবে এবার খাল-বিল, ডোবা-নালায় পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দেয়া যাচ্ছে না। ফলে পাট নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। নিরূপায় হয়ে পুকুর ও গর্তে পাট জাগ দিচ্ছেন চাষিরা। কিন্তু অল্প পানিতে জাগ দিলে পাটের রং কালচে বর্ণ ধারণ করে। এমনটা হলে বাজারে পাটের দাম ভালো পাওয়া যায় না। এছাড়া বৃষ্টির অভাবে পাটক্ষেতে বারবার সেচ দিতে হয়েছে। এজন্য ব্যয়ও বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে পাটের এবার লোকসান গুনতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
উপজেলার বাবরা গ্রামের কৃষক মোঃ মাসুদ খন্দকার জানান, তিনি ২৫০ শতাংশ জমিতে পাট চাষ করেছেন। সেচ দিয়ে আবাদ করে এখন পাট পচানোর জায়গা পাচ্ছেন না।
উপজেলার মরিচ পাশা গ্রামের মোঃ হিরু মোল্যা জানান, তিনি ১০০ শতাংশ জমিতে এবার পাট চাষ করেছেন কিন্তু পানির অভাবে পাট কাটছেন না ।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র মতে এ বছর লোহাগড়াউপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৩৫২ হেক্টর জমিতে। চাষ হয়েছে ১১ হাজার ৫৫০ হেক্টরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.