কুলিয়ারচরে থানার ভিতর সাংবাদিককে মারধর-আটক ১ 

কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি  : কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে  সংবাদ প্রকাশের জের ধরে মুহাম্মদ কাইসার হামিদ নামের এক সাংবাদিককে থানার মধ্যে পেয়ে তাকে মারধর করেছে ওই গণধর্ষণ মামলার অন্যতম প্রধান  অভিযুক্ত মেরাজ মিয়া ও তার লোকজন। গতকাল  বুধবার (৭আগষ্ট) বিকাল সোয়া ৩ টার দিকে কুলিয়ারচর থানার ভিতর এ হামলার ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ তাৎক্ষনিক ভাবে  ঘটনাস্থল থেকে মেরাজ মিয়াকে আটক করেছে। মেরাজ মিয়া উপজেলার চরকামালপুর ঠুলি মৌলভী বাড়ির আব্দুল হক মৌওলানার (পীর সাহেবের) ছেলে এবং তাঁর মাজারের খাদেম।
জানা যায়, গত ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চরকামালপুর ঠুলি মৌলভীর বাড়ীর মাজার সংলগ্ন একটি পুকুর পারে মাজারের দায়িত্বে থাকা ঠুলি মৌলভীর ছেলে মেরাজ মিয়া সহ অজ্ঞাতনামা ৫ যুবক কর্তৃক পাশ্ববর্তী কটিয়াদী উপজেলার পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের এক বিধবা পিঠা বিক্রেতার কিশোরী (১৬) কন্যা গণধর্ষণের শিকার হয়েছে  বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ওই ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে গত ২৬ জুলাই মেরাজ মিয়াকে প্রধান আসামী করে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে কুলিয়ারচর থানার দ্বায়িত্বরত অফিসার এস আই আবুল কালাম আজাদ ও এস আই মোঃ আজহারুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শণ সহ অভিযোগটি তদন্ত করেন। পরে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে গত ৩০ জুলাই কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল নং -২, এ মেরাজ মিয়াকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ অাদালত মামলাটি গ্রহন করে তদন্তের অাদেশ দেন। যা নারী ও শিশু পিটিশন মামলা নং -১৮৮/১৯।
এই ঘটনার সংবাদ পেয়ে জাতীয় দৈনিক সংবাদ, দৈনিক পূর্বকণ্ঠ পত্রিকা,  নিউজ পোর্টাল কিশোরগঞ্জ নিউজ ডটকম সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিভিন্ন শিরোনামে সাংবাদিক কাইসার হামিদসহ  একাধিক সাংবাদিক সংবাদটি তাঁদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করলে বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশিত
হয়। এতে  মেরাজ মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে লোক মারফত ও নিজে কাইসার হামিদকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে সাংবাদিক কাইসার হামিদ জানান ।এদিকে গত বুধবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে সাংবাদিক কাইসার হামিদ তার পেশাগত দ্বায়িত্ব পালন করতে কুলিয়ারচর থানায় গিয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাই তালুকদারের সাথে কথা বলে থানা থেকে বেড়িয়ে আসার সময় থানা অফিসের কেচি গেইট পার হওয়ার সাথে সাথে মেরাজ মিয়া লোকজন নিয়ে কাইসার হামিদকে খুন করার উদ্দেশ্যে থানা পুলিশের সামনে তার উপর অতর্কিত হামলা করে মারধর করতে থাকে। এ সময় থানায় ডিউটিরত কনস্টেবল সুমা আক্তার তাকে মারতে দেখে ডাক চিৎকার করিলে থানা পুলিশ সহ কাইসার হামিদের সহকর্মীরা এগিয়ে এসে তাকে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে। এ সময় হামলা কারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ মেরাজ মিয়াকে আটক করে। অন্যরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তার সহকর্মীরা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় ও চিকিৎসা করান। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই তালুকদার সাংবাদিকদের সাথে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় মেরাজ মিয়া নামে এক জনকে আটক করে বৃহস্পতিবার সকালে কিশোরগঞ্জ কোর্টে প্রেরন করা হয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.