জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্ম ও জীবন ( ৯ম ও বিশেষ পর্ব) 

প্রদীপ কুমার দেবনাথ 

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে নতুন সরকার প্রধান শেখ মুজিবঃ
পাকিস্তানি হানাদার চক্রের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, স্বজন হারানোদের হাহাকার, যুদ্ধাহত, ধর্ষিত, গৃহহীন অসহায় বাঙ্গালীরা দীর্ঘ ৯ মাসের নিষ্ঠুরতার পর নির্জীব, নিষ্প্রাণ, মৃতের মত নিথর। তবু একদম তৃণমূল থেকে উঠে আসা শেখ মুজিব ছিলেন কৃষক, শ্রমিক,  মেহনতি, সাধারণ মানুষ ও সকল পেশাজীবীদের নির্ভরযোগ্য শ্রেষ্ঠ আশ্রয়স্থল। চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ায় ২৩ দিন পর পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে জাতির জনক বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পরই যুদ্ধবিধ্বস্ত চরম ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের পূনর্গঠনে মনোনিবেশ করেন।
বাললার মানুষের দুঃখে, শোকে, কষ্টে আমাদের প্রাণপুরুষ, জাগরণের মহাকবি, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের  নির্মাতা সকলের সাথে ব্যথিত হলেন, উচ্চস্বরে কাঁদলেন, সবার কাঁধে হাত রাখলেন, অভয় দিলেন, সান্ত্বনা দিলেন এবং সকলকে পূণরায় মনোবল শক্ত করে স্ব স্ব কাজে নিজেদের নিয়োজিত হতে বললেন। বিভিন্ন সেক্টরকে প্রাণসঞ্চার করে এদের নতুন লোকবল নিয়োগ দিলেন।
জনগণও তাদের প্রাণের স্পন্দন, তাদের প্রিয় নেতা, মানবতার মহানসেবক জাতির জনকের আহবানে সাড়া দিয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ শুরু করলেন। এরই মধ্যে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প-কলকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় সেবা খাতসহ অফিস – আদালতগুলো চালুকরণের ব্যবস্থা করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শূন্য অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়ে যাত্রা করে প্রথমত খাদ্য ও আশ্রয় সংকট নিরসনে হাত দেন। পরবর্তীতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাগুলো মেরামতের ব্যবস্থা করেন। অল্প সময়ে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতায় প্রাথমিক সংকট গুলো কাটিয়ে উঠতে সমর্থ হন বঙ্গবন্ধু।
কয়েকদিনের মধ্যেই সংসদ অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম বাজেট পেশ করেন। বাজেটের পরিমাণ ছিল ৫০০ কোটি টাকা। বাজেট ঘোষনায় খাদ্য সংকট নিরসনে ও কৃষি উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে কৃষিক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেন। এর পরই তিনি শিক্ষাখাত ও সমাজ কল্যাণে বেশি বরাদ্দ দেন। পাশাপাশি গ্রামীণ শিল্প বিকাশের জন্য তিনি তুলা থেকে উৎপাদিত সূতায় ও কৃষি উৎপাদনের জন্য পানির পাম্পের, সারের উপর ট্যাস্ক রহিত করেন। শিশু খাদ্যের উপর ট্যাস্ক রহিত করেন।
বাজেট প্রণয়নের ঠিক এক বছরের মধ্যেই তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৪,৪৫৫ কোটি টাকার বিশাল উন্নয়ণ প্রকল্প হাতে নেন এবং যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সেতু, রাস্তা, প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ, টেলিফোনে ভবন নির্মাণ সহ অসংখ্য বৃহৎ কার্যক্রম হাতে নেন ও দ্রুত সম্পাদনের ব্যবস্থা করেন।
মাত্র ২ বছরের মধ্যেই দেশকে তিনি সোনার বাংলায় রুপান্তরের অধিকাংশ কাজ সমাপ্ত করে বিশ্ববাসীর কাছে দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করেন। সারাবিশ্বে একজন অপরিহার্য নেতা ও সেরা ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীরে স্থান করে নেন এই মহান নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.