আজ সেই কলঙ্কিত ও ভয়াবহ ২১ শে আগস্ট

প্রদীপ কুমার দেবনাথ: আজ ভয়াবহ সেই ২১ শে আগস্ট। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আজ থেকে ১৫ বছর আগে
২০০৪ সালের ২১ আগস্টে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে। এ ভয়াবহতায় প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ অনেক নেতাকর্মী। তবে জীবন বাজি রেখে সেদিন নেতারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে তার চারপাশে গড়ে তুলেছিলেন মানবপ্রাচীর।
ঘটনার দিন বিকালে একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ জিপে সমাবেশস্থলে পৌঁছান তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা। এর আগেই সমাবেশে অন্য কেন্দ্রীয় ও নগর নেতারা বক্তৃতা শেষ করেন। ৫টার পরে শেখ হাসিনা বক্তব্য দিতে শুরু করেন। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে বক্তৃতা শেষ করে শেখ হাসিনা তার হাতে থাকা একটি কাগজ ভাঁজ করতে করতে এগুতে থাকলেন ট্রাক থেকে নামার সিঁড়ির কাছে।
মুহূর্তেই শুরু হলো নারকীয় গ্রেনেড হামলা। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে লাগল একের পর এক গ্রেনেড। আর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ মুহূর্তেই পরিণত হলো মৃত্যুপুরীতে। শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে খই ফোটার মতো একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায় ঘাতকরা। ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় সেখানে। মানুষের দিগবিদিক ছোটাছুটি, প্রচণ্ড আর্তচিৎকার, মুহুর্তে সমগ্র এলাকার পরিবেশ ভারী করে তুলে। তখনও গ্রেনেড হামলা চলতে থাকে। মানবপ্রাচীর তৈরী করে নেতৃবৃন্দরা প্রিয় নেত্রীর চারপাশে। প্রাচীরের গায়ে আঘাত করতে থাকে ঘাতকদের গ্রেনেড। কিন্তু ভালবাসা আর বিশ্বাসের এই মানবপ্রাচীর ভাঙ্গবে এমন সাধ্য কার? গ্রেনেডে কোন ক্ষতি করতে পারেনি দুর্ভেদ্য সেই মানবঢাল। সেই ঢালটির প্রধান ব্যক্তিরা ছিলেন ট্রাকে অবস্থানরত মোহাম্মদ হানিফ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে মানবঢাল রচনা করে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে। সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান সহ ২৪ জন নেতাকর্মী এই হামলায় প্রাণ দেন এছাড়াও নেতা ও দেহরক্ষীদের আত্মত্যাগ ও পরম করুণাময়ের অশেষ কৃপায় মৃত্যুজাল ছিন্ন করে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কিন্তু ঘাতকরা এখানেই ক্ষান্ত হয়নি  গ্রেনেডের আঘাতে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়ে শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ করে ছুড়েছিল বৃষ্টির মতো গুলি। একেবারে পরিকল্পিত ও টার্গেট করা ঘাতকদের নিক্ষিপ্ত গুলি ভেদ করতে পারেনি শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়ির কাঁচ। এসময়  শেখ হাসিনাকে আড়াল করে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে জীবন বিলিয়ে দেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স কর্পোরাল (অব) মাহবুবুর রশীদ।
গ্রেনেড হামলায় প্রাণে রক্ষা পেলেও আহত হন শেখ হাসিনা। এছাড়া আহত হন আওয়ামী লীগ নেতা, মোহাম্মদ হানিফ, আমির হোসেন আমু, প্রয়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত,অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ওবায়দুল কাদের, সাঈদ খোকনসহ আরো অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.