কটিয়াদীতে নকশা অনুয়ায়ী নদী খনন করার দাবীতে ক্ষতিগ্রস্থদের মানববন্ধন

মাইনুল হক মেনু, স্টাফ রিপোর্টার : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচরপাড়াতলা গ্রামে কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার সীমান্তবর্তী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ ও আড়িয়াল খাঁ নদীর অংশ বিশেষ সি.এস/আর.এস নকশা অনুযায়ী পুনঃখনন কাজ করার দাবীতে ক্ষতিগ্রস্থদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার দুপুরে মানববন্ধনে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ে পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের শত শত নর-নারী ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এসময় তারা অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধসহ নদী গর্ভে চলে যাওয়া তাদের বাপ-দাদার ভিটে বাড়ি ও জমা-জমি রক্ষা করে সিএস/আরএস নকশা অনুযায়ী নদী পুনঃখনন করে উত্তোলিত মাটি দ্বারা ভাঙ্গনকৃত ভিটে-বাড়ি ভরাট করার দাবি জানান।
তারপূর্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সূত্রধর, পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রকল্প পরিচাল সাইদুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রউফ মণ্ডল, উপসহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল এরশাদ, সহকারী প্রকৌশলী সমির চন্দ্র পাল কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের ডা. মোশতাকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান কেয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আলী সবুজ, কটিয়াদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ. ওয়াহাব আইন উদ্দিন, লোহাজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাহার উদ্দিন রতন, উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের যুগ্ন-আহবায়ক মো. রুহুল আমীন সরকার। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, লোহাজুরী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কাসেম ফারুক, ইউপি সদস্য কবীর হোসেন, আনোয়ার হোসেন, সিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ বকুল প্রমুখ।
মানব বন্ধনে উপজেলার লোহাজুরি ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনের দাবী জানান।
নদী খনন বিষয়ে স্থানীয়দের সভায় হামলা ঃ
বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার সীমান্তবর্তী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ ও আড়িয়াল খাঁ নদীর অংশ বিশেষে পুনঃখনন কাজের পরামর্শ সভা ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর হামলায় পণ্ড হয়ে যায়।
এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা লাঠিসোঁটা ও চেয়ার নিয়ে হামলা চালালে মনোহরদী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এমদাদুল হক ভূঁইয়া এবং সাবেক ইউপি সদস্য শওকত আলী আহত হন। এলাকাবাসী জানান নদীর পাশে রোপনকৃত কয়েকটি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাধারণ নাগরিকের বসতবাড়ি ও ফসলের জমি দিয়ে নদী প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে বাস্তুভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে দেশান্তরী হয়েছে এলাকার অনেক পরিবার। প্রকৃত নকশা এবং সিএস/আরএস রেকর্ড ধরে প্রকৃত নদীপথ খননের। কিন্তু, স্থানীয় কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সহায়তায় নদী ভাঙ্গনের পরিবর্তিত গতিপথ ধরে সাধারণ জনতার জমির ওপর দিয়ে নদী খনন কাজ শুরু করার অপচেষ্টার অভিযোগ এলাকাবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.