রাণীনগর মাদকে ছেয়ে গেছে : বাড়ছে অপরাধ মূলক কর্মকান্ড

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) : মাদকে ছেয়ে গেছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সর্বত্র। রকমারী মাদকের নীল থাবার কবলে পরেছে সমগ্রহ উপজেলা। হাতের নাগালে সহজভাবে পাওয়ার ফলে একদিকে যেমন ধ্বংস হতে চলেছে যুব সমাজ অন্য দিকে বেরেই চলেছে চুরিসহ নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকান্ড ।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারন জনগন ও জণপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানাগেছে,রাণীনগর উপজেলার প্রায় অর্ধশত স্পটে মাদক বেচা-কিনা হচ্ছে । এসব মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা,হেরোইন,গাঁজাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক দ্রব্য। সহজেই হাতের নাগালে পাওয়ায় আশক্ত হয়ে পরছে স্কুল /কলেজ পড়–য়া কমলমতি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনী/পেশার মানুষ। কখনো দিনে আবার কখনো সন্ধ্যা হলেই জমে ওঠে এসব মাদকের আসর। দল বদ্ধ হয়ে নেশাগ্রহন করে মাদক সেবিরা। প্রতি মাসে অহরহ মাদক ব্যবসায়ী কিম্বা সেবিদের আটক করে জেল হাজতে অথবা ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দেয়া হলেও কোন মতেই কমছেনা মাদকের কারবার । চলতি মাসে ১-২২ তারিখ পর্যন্ত রাণীনগর থানাপুলিশ প্রায় আটটি মাদক মামলা রুজু করেছেন। এছাড়া ইয়াবা,হোরেইন ও গাঁজা উদ্ধার করেছে। গত ৩১ জুলাই নাটোর র‌্যাব -৫ রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের ভেবরাগাড়ী গ্রামে অভিযান চালিয়ে দুই কেজি গাঁজাসহ মাসুদ রানা (৫০) ও আফজাল ফকির (৩২) কে আটক করে । গত ১৫ আগষ্ট নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আতাইকুলা থেকে এক কেজি গাঁজাসহ আল আমিন (২১) নামের এক জনকে আটক করে। মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে মাদক সেবিরা জড়িয়ে পরছে নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকান্ডে । চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত চারটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত অপরাধ কর্মকান্ড ঘটেই চলেছে । অনেকেই বলছেন,মাদক বহনের নিরাপদ রুট হিসেবে রাণীনগর উপজেলার পূর্বাঞ্চল পার্শ্ববতি বগুড়া জেলা এবং উপজেলা সিমান্ত এলাকা ঘেষা হওয়ায় বেশিরভাগ মাদকের চালান আদমদীঘি-আবাদপুকুর রাস্তা হয়ে রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ সিংড়া,নাটোর,আত্রাই উপজেলার মধ্যে প্রবেশ করছে।এছাড়া আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুর বাজার হয়ে রাণীনগরের চয়েনের মোড় থেকে একডালা,মাদারতলা ব্রীজ দিয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা এবং সিংড়ার কালীগঞ্জ বাজারে প্রবেশ করে। অন্য দিকে উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে নওগাঁ সদরের শৈলগাছী-দীঘির পার হয়ে রাণীনগরের মিরাট থেকে আত্রাইয়ের বান্দায়খাড়ার মধ্যে প্রবেশ করে।
পারইল ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জাহিদ হাসান বলেন, পারইল,লস্করের মোড়সহ বেশ কয়েকটি স্থানে অবাদে চলছে মাদক ব্যবসা। কোন ভাবেই কন্ট্রল করা যাচ্ছে না। এছাড়া তাস, লুডু ও ক্যারামবোডের মাধ্যমে জমজমাটভাবে জুয়া চলছে । পুলিশ এসে ধরে নিয়ে গেলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো একই কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরছেন তারা ।
ভাটকৈ এলাকার একজন মেম্বার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাদক প্রতিরোধ করতে গিয়ে নানা ভাবে লাঞ্চিত হতে হচ্ছে তাকে । ইতি মধ্যে ৪/৫টি “মিথ্যে” মামলাও হয়েছে তার বিরুদ্ধে ।
রাণীনগর থানার ওসি জহুরুল হক বলেন, রাণীনগর উপজেলায় মাদকের তেমন কোন নজির নেই । এর পরেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনের জন্য মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.