শিক্ষকদের সম্মানী ও দায়িত্ববোধঃ -মোঃ নজরুল ইসলাম রনি।

নিউজ ডেস্ক : সর্বোচচ ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের মাসিক ইনকামও সর্বোচ্চ হবে এটাই স্বাভাবিক।শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর।শিক্ষকরা সম্মানিত হলে জাতি সম্মানিত হবে। কিন্তু সমাজে শিক্ষকদের সম্মান আজ কতটুকু তা প্রশ্নের সম্মুখীন।তার অনেক কারণও রয়েছে।শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠছে।শিক্ষকরা ছোট ছোট অবুঝ ছাত্রদের মেরে রক্তাক্ত করছে।হউক সেটা টিউশন শিক্ষকরা, তারাও কিন্তু শিক্ষক।পরিমলকে জাতি এখনো ভুলতে পারেনি।ফেনী সোনাগাজীর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল কুখ্যাত সিরাজ উদুললাহকে জাতি কখনো ভুলতে পারবে? এসব কি শিক্ষকের কাজ?খুব লজ্জা পাই যখন নিজেকে শিক্ষক ভাবি।শিক্ষক হিসেবে আমাদের কি রাষ্ট্রের প্রতি কোন দায়িত্ব নেই?কোন মুখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে আলোচনায় বসবো!জাতিকে কিছু দিতে হবে।কি দিতে পেরেছি?এমন হাজারো প্রশ্ন মনে ঘুরপাক খায়।
 শিক্ষকরা আন্দোলন করে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পাশাপাশি নিজেদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অধিকতর আন্তরিক হতে হবে।নিজের চরিত্র সুমহান রেখে নিজেদের  আদর্শ বজায়ে চলতে হবে।
এই সেদিন একজন জাতীয় সংসদ সদস্যের নিকট কয়েকজন শিক্ষক গেলাম ঈদ পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাত্কারে।একজন সম্মানিত শিক্ষক কিছু অভিযোগ করতে গিয়ে অন্য একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বদনাম বলার সাথে সাথেই এমপি মহোদয় মুখের উপর বলেই ফেললেন আপনারা কেমন শিক্ষক একজন শিক্ষক হয়ে আরেকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গীবত বলেন!এটাই শিক্ষা!নিজেকে শিক্ষক মনে করে সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করা ঠিক নয়।সবাইকে আমাদের ছাত্র মনে করাও বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।
অনেক শিক্ষকরা অন্যদের প্রতি সামান্যতম সম্মানটুকও করিনা।তাহলে জাতি আমাদেরকে সম্মান দিবে কিভাবে?আসলে শিক্ষকদের সম্মানটুকু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।ফেসবুক এমশঃ সবকিছু হরণ করছে।না বুঝেই একটা comments এবং মূল্যবান সময় আমরা অহেতুক ফেসবুকে নষ্ট করছি।নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে, নিজের পেশাকে মর্যাদাপূর্ণ করতে পড়াশোনাও করছিনা।আমাদের ছাত্ররাও বিমুখ।ফলে দিন দিন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল নিম্নমুখী।এর জন্য শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য অন্যতম একটা কারণও বটে।কিন্তু সরকার কিংবা অভিভাবকগণ এটি মানতে নারাজ।সকল দোষ শিক্ষকদের উপর এসে বর্তায়।এর কারণ হিসেবে বলা যায়-সরকার শিক্ষকদের কোচিংবাণিজ্য বন্ধ করলেও ফ্রিল্যান্স কোচিং কিন্তু চালু রেখেছে।অথচ পুঁজিবাঁদী ও অল্প শিক্ষিতরাই এসব কোচিং এর সাথে জড়িত।কোচিং বাণিজ্যের আজ জয়  জয়কার।অথচ শিক্ষকদেরকে কোচিং এর বাইরে রাখা হয়েছে।শিক্ষকরা মোটেও কোচিং করতে চায়না।এটা সম্মানজনক কোন পেশা নয়।নিজেকে ভিক্ষুকের মতো লাগে।হয়তো শিক্ষকরা অভিভাবকদের অনুরোধে এবং নিজের জীবনের তাগিদে কোচিং বা টিউশন করতে পারেন।তবে সেটা তখনই পুরোপুরি বন্ধ হবে যখন শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে,পাবে উচ্চতর বেতনস্কেল কিংবা জাতীয়করণ।
শিক্ষকরা বর্তমানে সরকারের নিকট থেকে শতভাগ বেতন পাচ্ছেন।অনেকেই এটিকে না বুঝে এখনো অনুদান বলে থাকেন।কিন্তু দাবির মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন এমপিও’তে বেতন লিখে থাকে।আর কখনো অনুদান লেখা যাবেনা।এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।কিন্তু কথা হলো শিক্ষকরা বেতন বৈষম্যের শিকার।১০০টাকা বাড়ি ভাড়া ও ৫০০টাকা চিকিত্সা ভাতা এবং ২৫% ঈদ বোনাস আর সামান্য বেতন দিয়ে শিক্ষকদর জীবন কোন রকম চললেও হঠাত্ ১০% কর্তন শিক্ষকতা পেশাকে ম্লান করে দিয়েছে।শিক্ষকদের দীর্ঘ আন্দোলনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের নভেম্বরে ৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট চালু করেছেন।কিন্তু পরবর্তীতে সরকার বিরোধী একটি অশুভ চক্র সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই শিক্ষকদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪% কর্তন শুরু করেছে।এ নিয়ে শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।দেরি করে হলেও বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষক সমাজকে বৈশাখী ভাতাও প্রদান করেছেন।এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
২০১৯-২০অর্থ বাজেটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কোন প্রকার বাজেট বরাদ্দ না থাকায় ৫লাখ শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।শিক্ষকদের মাঝে রয়েছে চাপা ক্ষোভ ও বেদনা।বর্তমানে শিক্ষকদের একটাই দাবি জাতীয়করণ।এটি এখন সময়ের দাবি।
২০২০ সালে মুজিববর্ষ।আমরা শিক্ষক সমাজ আশা করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে “শিক্ষা ব্যবস্থা”জাতীয়করণ ঘোষণা দিয়ে শিক্ষক সমাজকে খুশি করবেন।
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.