শালিখায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠেছে হাসান ডোর এন্ড ডিজাইনঃ ইন্ড্রাঃ লিঃ

মাগুরা,প্রতিনিধিঃ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই মাগুরার শালিখা উপজেলার নব্যখ্যাত শিল্প অঞ্চল নামে পরিচিত ৪নং শতখালী ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া এলাকায় গড়ে উঠেছে হাসান ডোর এন্ড ডিজাইনঃ ইন্ড্রাঃ লিঃ নামে একটি ভ্ুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান। বহুল জনবসতি, ফলজ বাগান ও কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি করে হাসান ডোর এন্ড ডিজাইনঃ ইন্ড্রাঃ লিঃ নামের এই প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠাই এলাকার বাসীর মধ্যে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা। প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশের ছাড় পত্র সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র আছে কিনা তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমত মিলটি গড়ে উঠলে এলাকাবাসী খুবই খুশি হয়েছিল। কারন, তাদের স্বপ্ন ছিল এলাকায় এই মিলটি গড়ে উঠেছে হয়তো গ্রামের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। কিন্তু মিলটি চালু হওয়ার কিছুদিন পরেই সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর নামে তাদের সাথে করা হচ্ছে বড় ধরনের প্রতারণা। ঈদ আসলেই কর্মরত শ্রমিকদের বেতন বোনাস না দিয়ে গোপনে মিল বন্ধ করে দেয় মালিক পক্ষ, এমন অভিযোগও আছে। শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ভয়ে নানা তালবাহনা ও বিভিন্ন ধরনের অজুহাতে তাদেরকে ছাটাই করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এব্যাপারে মিলের পার্শ্ববর্তী হোসেন জানান মিল সংলগ্ন ২৪ শতক জমির মধ্যে ৮ শতক আমার পিতা হাসান মুন্সীর । বাকি ১৬ শতক জমি মিল মালিক আসাদুজ্জামানের। কিন্তু এখানে একটা বড় ধরনের সমস্যা রয়ে গেছে। কি সমস্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন এক মালিকের কাছ থেকে মিলের জমি ক্রয় করলেও আলী নামের অপর এক ব্যক্তি এই জমির প্রকৃত মালিক বলে দাবী জানাচ্ছেন। যে কারনে মিল মালিক আসাদ উজ্জামান আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় গত কয়েকদিন আগে মিল মালিক মামলার বিবাদী পক্ষের লোকজনের উপর আতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদেরকে গুরুতর জখম করেন। এখন পর্যন্ত ওই জমির উপর মামলা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান মিল মালিক আসাদুজ্জামান বিতর্কিত জমি কিনে শুধু মাত্র টাকা ও ক্ষমতার জোরে কিছু নিরীহ ব্যক্তির নামে আদালতে মামলা দিয়েও ক্ষান্ত হয়নি। কতিপয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে লাটি,লোহার রড,ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এ ছাড়াও কয়েকজন নিরীহ মানুষকে বেদম মারপিট সহ মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,হাসান ডোর এন্ড ডিজাইনঃ ইন্ড্রাঃ লিঃ নামের এই প্রতিষ্ঠানের নামে কোন সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি। তবে মিলের সামনের গেইটে নিয়োগ চলিতেছে বলে একটি প্লেট ঝুলিয়ে রাখা আছে। মিলের সামনে অর্থাৎ যশোর-মাগুরা মহাসড়ক অনেকটাই দখল করে বড় বড় গাছের গুড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। যে কারনে ঐ স্থানে বড় ধরনের সড়ক দূর্ঘটনা সহ নানা ধরনের যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে প্রায় প্রতিদিনই। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী সহ স্থানীয় সাংবাদিক বৃন্দ মৌখিক ভাবে বারবার মালিক পক্ষকে অভিযোগ করলেও কোন প্রকার কর্ণপাৎ করেননি বলে স্থানীয় অনেকেই জানান । এই ঘটনায় এলাকার কতিপয় প্রভাবশালীদের দিয়ে সাংবাদিকদের নানা ভয়ভীতি ,হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিলের একজন সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান ভাই ওই মিলে অনেক সমস্যা আছে। কি কি সমস্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন কি আর বলবো, সব চেয়ে বেশি যে সমস্যা সেটা হলো শ্রমিকদের বেতন ঠিক মত দেওয়া হয়না। নানা তালবাহানা করে তাদেরকে ছাটাই করে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে হাসান ডোর এন্ড ডিজাইনঃ ইন্ড্রাঃ লিঃ এর (ভারপ্রাপ্ত) ম্যানেজার মোঃ জামিরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন যেসব অভিযোগের কথা বলছেন তা অনেকটাই সঠিক না। মিলে এমন কোন ঘটনার সত্যতা পাবেন না। তবে মিলের জমি নিয়ে এলাকাবাসীর সাথে মামলা করার ঘটনাটি স্বীকার করেন। এব্যাপারে হাসান ডোর এন্ড ডিজাইনঃ ইন্ড্রাঃ লিঃ এর মালিক মোঃ আসাদুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন এই মিল করতে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋন নিয়েছি। ঈদে শ্রমিকদের বেতন বোনাস না দেওয়ার অজুহাতে মিল বন্ধ রেখে আবার দুটি ঈদ পার হলেই এক সপ্তাহ পরে পুনরায় মিল চালু করে আবার নতুন করে মিলে শ্রমিক নিয়োগ দেন এমন অভিযোগের কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন আসলে এমন কোন কিছু নয়। বিদ্যুৎ অফিসের বিল পরিশোধ না করায় অফিস বিদ্যুৎ লাইন কেটে দিয়েছিল যে কারনে মিল বন্ধ ছিল। বহুল জনবসতি ও ফলজ বাগানের ভিতর ইন্ড্রাষ্ট্রি গড়ে তুলেছেন কি ভাবে এবং পরিবেশের ছাড়পত্র সহ অন্যান্য কাগজ পত্র আছে কিনা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে তিনি গোপনে কোথাও চলে যান। মিলের পানি নিষ্কাশন সহ অন্যান্য বর্জাদি কোথায় নিস্কাশিত হয় মিলের (ভারপ্রাপ্ত) ম্যানেজার মোঃ জামিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন মিলের পানি নিষ্কাশন ও বর্জ ফেলার জন্য নিজেরা একটি গর্ত খুড়ে নিয়েছি। সেখানেই মিলের সকল বর্জ ও পানি ফেলা হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তানভীর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.