রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে ৪১ এনজিওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক:  রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অপকর্মে লিপ্ত থাকায় তালিকাভুক্ত ৪১টি এনজিওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

শনিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দক্ষিণ সুরমায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পর ১৩৯টি এনজিও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল। এদের মধ্যে অপকর্মে লিপ্ত থাকায় তালিকা করে ৪১টি এনজিওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

আরও কিছু এনজিও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আরও কিছু এনজিও একই কাজ করছে বলে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যদিও বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি এনজিও নানাভাবে তদবির করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বলেও জানান তিনি।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী তিন মাসে মিয়ানমারে সেনা নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নেয় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা নারী গর্ভবতী অবস্থায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে ১৯৬৮ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রিত রয়েছে আরও অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা। নতুন করে অনুপ্রবেশের পর গত ২০ মাসে এখানে জন্ম নিয়েছে আরও প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শিশু। জানা গেছে, ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন গড়ে জন্ম নিচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ শিশু।

বর্তমানে নিবন্ধনের আওতায় এসেছে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৪১৭ জন রোহিঙ্গা। এরা উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে। মিয়ানমারে জাতিগত নিধন ও হত্যার শিকার রোহিঙ্গাদের বিপুল জনগোষ্ঠীকে শুরুতে মানবিক কারণ দেখিয়ে আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ। তবে এত অধিক জনসংখ্যার ছোট দেশে এত সংখ্যক রোহিঙ্গাদের দীর্ঘসময় ধরে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। দিনকে দিন এই বোঝা বেড়েই চলেছে বাংলাদেশের জন্য। তবে কোনো সুরাহা এখন পর্যন্ত মেলেনি।

এদিকে অভিযোগ উঠে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত না যাওয়ার বিষয়ে উৎসাহ দিচ্ছে কিছু এনজিও। আর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীরাও এসব অভিযোগ তুলছেন।

যদিও অনেক দেশি-বিদেশি এনজিও এবং তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ও তাদের খাদ্য, অস্থায়ী বাসস্থান, চিকিৎসা, বস্ত্র, লেখাপড়া, বিনোদনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখাইনে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে সরকার। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.