চুয়াডাঙ্গায় নিউমোনিয়া রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি ; এক সপ্তাহে আড়াই শতাধিক শিশু ভর্তি

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি, সোহেল রানা ডালিম (০১.০৯.১৯):চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করে শিশুদের নিউমোনিয়া রোগের প্রকোপ বৃদ্দি পেয়েছে। নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ৭/৮ দিনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তিন শতাধিকের বেশী শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের বর্হিবিভাগেও প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ জন নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়ার তারতম্যের কারণেই হঠাৎ করেই চুয়াডাঙ্গায় শিশুদের উপর নিউমোনিয়া রোগের প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছে।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত আগষ্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু শিশু চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হতে শুরু করে। এর পর থেকেই প্রতিদিনই শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আজ রোববার দুপুর পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত প্রায় ১০০ শিশু ভর্তি ছিলো। বেড না পেয়ে রোগীর স্বজনরা শিশুদের নিয়ে ওয়ার্ড ও পাশের গাইনি ওয়াডের ফ্লোরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা রয়েছে মাত্র ১৩ টি। বেডের তুলনায় সাত গুন বেশি নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হওয়াতে শিশু ওয়র্ডসহ আশপাশে তিল ধরণের ঠায় নেই। হটাৎ করেই নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডের সাধারণ শিশু রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সরা।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়ার ইউনিয়নের আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার ভাইয়ের ছেলেকে নিয়ে তিনি গত কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও আজও তারা বেড পায়নি। ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা এতো বেশি যে, তীব্র গরমে শিশুরা আরও অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন।
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত অপর এক রোগীর স্বজন বলেন, তার নাতনী হঠাৎ করেই বাড়িতে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে হাসপাতালের ডাক্তাররা আমাদের বলে রায়েশা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হবে। ভর্তি হবার পর থেকে বেড না পেয়ে বারান্দায় কোনরকম পাটি পেড়ে নাতনীর চিকিৎসা নিচ্ছি।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্য আর এক শিশুর মা বলেন, তার মেয়ে গত সাতদিন ধরে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ্য হতে চিকিৎসকরা আরো কদিন হাসপাতালে থাকতে বলেছেন।
সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আসাদুর রহমান মালিক খোকন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন , হঠাৎ করেই কয়েকদিন আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়ায় শিশুদের মাঝে নিউমোনিয়া রোগ ছড়িয়েছে। এই সময় আক্রান্ত শিশুকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে। মায়ের বুকের দুধ পান বন্ধ করা যাবে না।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম কবির বলেন, বেশ কিছুদিন চুয়াডাঙ্গায় ভ্যাপসা গরম পড়ছে। কোনো বৃষ্টিপাত নেই। কিছুদিন আগে অতিরিক্ত গরমের কারণে ডায়রিয়া রোগের প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছিল। গরমের কারণে শিশুরা অতিরিক্ত ঘেমে যাচ্ছে। আর এই ঘাম গায়ে বসে ঠান্ডার সাথে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। এখন শিশুদের আলাদাভাবে যতœ নেওয়া দরকার। হালকা পানি নরম কাপড়ে নিয়ে শিশুর শরীরের ঘাম মুছে দিতে হবে। যেসব মা তার শিশুর যতœ নিতে পারছেন না তারা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। এ সময় সদর হাসপাতালে লোকবলের অভাব আছে স্বীকার করে তিনি বলেন চাহিদুর তুলনায় লোকবল কম থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তার পরও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুসহ সকল রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.