শালিখায় এক লম্পটের বিচারের দাবীতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অসহায় গৃহবধু 

মাগুরা,প্রতিনিধিঃ মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের কাতলী গ্রামের শরিফুল নামের এক লম্পটের কারনে অসহায় গৃহবধু বিউটি খাতুনের
 সংসার ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। শরিফুল স্থানীয় কাতলী গ্রামের মৃত জুব্বার মোল্যার ছেলে৷ তিন সন্তানের জননী গৃহবধু বিউটি খাতুন জানান লম্পট শরিফুল দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ আমাকে বিয়ের প্রলোভনে ভোগ করে আসছে। আজ বিয়ে করবো কাল বিয়ে করবো বলে সে একের পর এক সময় নিয়ে গতকাল আমার ছেলে মেয়ের সামনেই নাকেরতা ও কানের দুল পরিয়ে বলে আজ তোমাকে পরিপূর্ন স্ত্রীর মর্যাদা দিলাম। ঘটনার পর আমি শরিফুলের বাড়ী উঠে পড়তে গেলে তার ভাই সহ পরিবারের লোকজন আমাকে বেধড়ক পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে অকত্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি বাড়ী ফিরে আসলে গ্রামের কতিপয় নেতাদের দিয়ে সে নানা ভয়ভীতি ও হুমকী ধামকী দিতে থাকে। এব্যাপারে থানা থেকে পুলিশ এসে শরিফুলসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে আরো  উল্টা আমাকে অকত্য ভাষায় গালিগালাজ করে চলে গেছে। আমি এখন কি করবো, কোথায় যাবো ভেবে পাচ্ছিনা। শরিফুল এখন এই সম্পর্কের কথা সম্পূর্ন অস্বীকার করছে। আমি তার বিচারের দাবীতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু  কেউ  আমার বিচার করে দিচ্ছেনা। অসহায় মহিলাটি সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে আরো বলেন আমার স্বামী অহেদ আলীর কাছ থেকে বাড়ীর ৬ শতক জমি আমার নামে লিখে নিয়ে তাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিয়েছি শুধু  মাত্র শরিফুলের কথা শুনে। এ ছাড়াও ওই জমি লিখতে যে টাকা খরচ হয়েছে, সব খরচও শরিফুল দিয়েছে। কিছু কিছু সময় শরিফুল আমার স্বামী অহেদ আলীকে কৌশলে ঘুমের বড়ি খাইয়ে গভীর ঘুমে অচেতন করে আমাকে ভোগ করেছে। প্রথমতো আমি শরিফুলের সাথে সম্পর্ক করতে রাজি হইনি। আমার স্বামী এবং সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে। কিন্তু অভাবের সংসার হওয়ায় শরিফুলের প্রলোভনে পড়ে আমি এমন কাজ করেছি। আমার স্বামীকে বাড়ী  থেকে তাড়িয়েছে সে। এখন শরিফুল আমাকে নিচ্ছেনা। এই সম্পর্কের কথা সে সম্পূর্ন অস্বীকার করছে। আমি কি করবো। ছেলে  মেয়ে  নিয়ে  তিন  চার দিন  না খেয়ে আছি। কে আমাদের  খেতে  দেবে।  আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন  উপায়  নেই আমার। এব্যাপারে অভিযুক্ত শরিফুলের স্ত্রী পারভীন বেগম জানান আমার স্বামীকে ওই মহিলার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় হাতে নাতে ধরেছি। আমি শরিফুলের স্ত্রী রয়েছি সব জানার পরও মহিলাটি আমার বাড়ী উঠেছিল। তাই তাকে একটু চড়থাপ্পড়  মেরেছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাতলী গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান শরিফুলের এই ঘটনাটি সম্পূর্ন সত্য। আমরা তাকে বার বার বলেছি তুই এই পথ  থেকে সরে আয়। কারন তোর বউ ছেলে মেয়ে রয়েছে। ভাল হয়ে যা। কিন্তু  সে আমাদের কথা না শুনে ওই মহিলার বাড়ী নিয়মিত আশা যাওয়া করে। এছাড়াও এলাকায়  সে আরো কয়েকজন মহিলার সাথে এমন জঘন্য ধরনের কাজ করেছে। ওর বড় ধরনের শাস্তি হওয়া উচিৎ। এব্যাপারে অভিযুক্ত  শরিফুলের  সাথে কথা বললে তিনি বলেন ভাই এই সব ঘটনার কোন  সত্যতা  নেই। আমি ষড়যন্ত্রের স্বীকার।এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ঐ মহিলা এলাকার সচেতনমহলসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.