নাটোরে নিষিদ্ধ থ্রি হুইলার থেকে যুবলীগ নেতার চাঁদাবাজী

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের মহাসড়ক গুলোতে চলাচল করছে অবৈধ থ্রি হুইলার যানবাহন। ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, মহাসড়কগুলোতে এসব নিষিদ্ধ তিন চাকার যান চলাচলের নেপথ্যে রয়েছেন এক যুবলীগ নেতা। মাসে কয়েক লক্ষ টাকা এসব যানবাহন থেকে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন এসব যানবাহনের চালকরা।
স্থানীয় চালকদের অভিযোগ, নাটোর শহরের মাদরাসা মোড় থেকে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের বগুড়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন দুুই শতাধিক অটোরিকশা ও রুটপারমিট বিহীন লেগুনা চলাচল করে। এই বাসষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে নলডাঙ্গার পাটুল, বাশিলা, সিংড়ার কালীগঞ্জ, বিলদহর, হাতিয়ান্দহ, নওগাঁর আত্রাই পর্যন্ত চলাচলরত অটোরিকশা ও লেগুনা থেকে দৈনিক ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। টাকা দিলেই অটোরিকশায় সিরিয়াল পায় এই স্ট্যান্ডে, না দিলে নাটোর-সিংড়া মহাসড়কে গাড়ী চালাতে দেয়া হয় না।
লেগুনা চালক আব্দুল হান্নান জানান, তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে নাটোর থেকে সিংড়ার বিলদহর এলাকা পর্যন্ত লেগুনা চালান। বগুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাকে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। মিঠুনের বিশ্বস্ত  লোক হিসেবে পরিচিত সোহেল এই টাকা নিয়ে যায়।
মমিন আলী  ও করিম মিয়া নামের দুই অটোরিকশা চালকের অভিযোগ করেন, প্রতিদিন আয় হোক বা না হোক, নিয়মিত চাঁদা দিতে হয় তাদের। মিঠুন আলী বা তার লোকের হাতে   চাঁদার টাকা  না দিলে দাঁড়ানো যায় না রাস্তায়। তাই বাধ্য হয়েই তারা চাঁদা দেন।
জানা যায়, শহরের বলারীপাড়া এলাকার মৃত সাহাবুদ্দিনের ছেলে মিঠুন আলী বিএনপি সরকারের আমলে শ্রমিকদল নেতা কামাল হোসেনের সহযোগী ছিলেন। ওয়ান ইলেভেনের পর রাতারাতি তিনি আওয়ামী লীগ বনে যান। পরে সে নাটোর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। আওয়ামী লীগ সরকার  মাত্র ১০ বছরে শূন্য থেকে  নামে-বেনামে অঢেল  সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মিঠুন আলী তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনভাবেই চাঁদা তোলার সাথে জড়িত নয়। তিনি অঢেল সম্পদের মারিক ও নন। তিনি যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত।
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বিপ্লব জানান, মিঠুন আলী ৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক। তিনি কোন প্রকার চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত নন।
নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, মহাসড়কে সব ধরণের অভৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের জন্য পুলিশি অভিযান চলছে। তবে রাতারাতি সব কিছু একেবারে বণ্ধ করে দেয়া একেবারে সম্ভব নয়। তবে ট্রাফিক সপ্তাহ ছাড়া ও আমাদের নিয়মিত অভিযান াব্যাহত থাকবে। দ্রুতই আমরা অভৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে সক্ষম হব।  চাদাঁবাজীর বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি নতুন এসছেন। খোঁজ নিয়ে চাঁদাবাজীর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে যুবলীগ মিঠুন আলীর বিরুদ্ধে সম্প্রতি চাদাঁবাজীর সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ ২৪ টেলিভিশনের স্থানীয় সাংবাদিক নাসিম উদ্দীন নাসিম  ও খান মামুনের  বিরুদ্ধে মঙ্গলবার  সিএনজি ,মাহিন্দ্র, হিউমান হলার মালিক শ্রমিক বৃন্দের ব্যানারে এই মানব বন্ধন করা হয়। সাংবাদিক নাসিম অভিযোগ করেন, প্রকৃত তথ্য তুলে ধরায় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় এই মানব বন্ধন করা হয়েছে। যেখানে ভাড়া করে লোক আনা হয় । সেখানে বক্তব্য রাখেন যুবলীগের দুইজন বিশিষ্ঠ নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.