আওয়ামী লীগ ধর্মের বিভাজনে বিশ্বাস করে না : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ কখনই ধর্মের বিভাজনে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি নিজেদের নিজেরাই সংখ্যালঘু বলে অবহেলিত মনে না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন, জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে দেশের সনাতম ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বাংলার মাটিতে যেহেতু আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে বুকের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কাজেই এখানে সব ধর্মের সম্মান ও অধিকার থাকবে।

এ সময় ভারতীয় শরণার্থী শিবিরে আশ্রিতদের কে হিন্দু বা কে মুসলমান সেটা দেখা হয়নি। আমরা সেটা ভুলব কিভাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আমার একটা অনুরোধ থাকবে আপনারা নিজেরা নিজেদের বারবার করে কেন সংখ্যালঘু সংখ্যালঘু বলেন, আমি জানি না। তিনি প্রশ্ন করেন, আপনারা কি এ রাষ্ট্রের নাগরিক না?

আপনারা কি এদেশের মানুষ না? এটা আপনার জন্মভূমি না? তিনি নিজেই এর উত্তরে বলেন, এটাতো আপনাদের জন্মভূমি। তাহলে নিজেরা নিজেদের ছোট করে সংখ্যালঘু করে দেখবেন কেন?

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাতমানন্দা মহারাজ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, জন্মষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গদে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত পাল, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিতও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

অপপ্রচার নিয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এখন সরকারের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা মূলত দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেরই ক্ষতিসাধন করছে।

কিছু লোক আছে অনবরত আমাদের বিরুদ্ধে বাইরে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যারা আমাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়। এটা আপনাদের (ব্যবসায়ী নেতাদের) চিহ্নিত করতে হবে।

বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার তেজগাঁও কার্যালয়ে (পিএমও) বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতারা সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজিএমইএর নবনির্বাচিত সভাপতি রুবানা হকের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া পেশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক বিজিএমইএ সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা, আরওয়াল-উল-আলম পারভেজ, সিদ্দিকুর রহমান, প্রথম জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম এবং জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফয়সল সামাদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.