সুনামগঞ্জের সেই ইউএনও ফের বদলি!

সিলেট: চট্রগ্রামের পর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে নারী ও আর্থীক কেলেংকারীতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ ইমতিয়াজকে তাহিরপুর থেকে ফের বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আবদুল লতিফ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ,
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আবদুল আহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে রাতে বলেন , ইউএনও আসিফকে জেলা কালেব্টরের থেকে বৃহস্পতিবার ছাড়পত্র দিয়ে দেয়া হয়ছে।
এরপুর্বে বিতর্কিত ইইএনও আসিফ ইমতিয়াজ বৃহস্পতিবার সকাল সকাল সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. মুনতাসির হাসান পলাশকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে লোক চক্ষুর আড়ালে অতি গোপনে তাহিরপুর ত্যাগ করেন।
প্রসঙ্গত, আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক বান্ধবীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগ ওঠে।
এ-সংক্রান্ত গঠিত তদন্ত কমিটি প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায়।
অভিযোগকারী নারীকে না জানিয়ে তার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে ১ মাসে ২০ লাখ টাকার লেনদেনের প্রমাণও মিলেছে।
সরকারের একজন দায়িত্বশালী কর্মকর্তার এ ধরনের কর্মকান্ডের ফলে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্য হয়েছে বলেও মতামত দেয়া হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।
বৃহস্পতিবার প্রেমিকার নামে ইউএনও’র গোপন অ্যাকাউন্ট’ শিরোনামে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রথম পৃষ্টায় দৈনিক যুগান্তর সহ অন্যান্য জাতীয় দৈনিক গুলোতে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
যা নিয়ে ওই ইউএনও’র কর্মস্থল তাহিরপুরসহ জেলা শহরের সুনামগঞ্জ জেলা কালেক্টরেট, আদালত পাড়া, এমনকি সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এরপর ইউনও আসিফ ইমতিয়াজকে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
একই প্রজ্ঞাপনে তাকে তথ্য-প্রযুক্তি যোগাযোগ বিভাগের ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
সেখানে সহকারী নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আসিফ ইমতিয়াজ। তাকে দ্রুত তাহিরপুর ত্যাগ করে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে (আগামী রবিবার ওই পদে যোগ দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহের ওই নারী ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, হত্যার হুমকি, ব্যাংকে অবৈধ লেনদেন ও সন্তানের স্বীকৃতির দাবিকে অস্বীকৃতি জানিয়ে ‘লোক লাগিয়ে’ হামলা চালিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেয়ার অভিযোগ করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।
এরপর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হারুন অর রশীদকে আহ্বায়ক করা হয়।
তিনি গত ১৪ আগস্ট জেলা প্রশাসকের নিকট বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। ,
জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা পদে কর্মরত থাকাবস্থায় স্থানীয় একটি ব্যাংকের কদমতলী শাখায় এ অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেখানে কয়েক মাস ধরে মোটা অংকের টাকা লেনদেনও করেন আসিফ ইমতিয়াজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করায় বিষয়টি নিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে বিরোধ বাধলে ব্যাংকে গোপন লেনদেনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এমনকি ওই নারী এ নিয়ে থানায় জিডিও করেন।
ভুক্তভোগী ওই নারী আরও জানান, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে তিনি সন্তানসম্ভবা হন। এ খবর আসিফকে জানানোর পরই তাদের সম্পর্কে অবনতি হতে শুরু করে। একপর্যায়ে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন আসিফ। গর্ভে থাকা সন্তান নষ্ট করার জন্য আর্থীক প্রলোভনে টোপ ফেলে ব্যর্থ হবার পর নানামুখী চাপ দেন।
বাধ্য হয়ে ওই নারী আসিফের কর্মস্থল চট্টগ্রাম যান। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানোর পর তিনি কৌশলে কর্তব্য ও দায় এড়িয়ে আসিফকে বদলি করান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ইউএনও হিসেবে।
বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রতিবেদকে বলেন, ‘সরকারের একজন অফিসারের এ ধরনের কর্মকান্ড বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে তাই কারো কোন ব্যাক্তিগত দায় গোটা দেশের প্রশাসন ক্যাডার বহন করবে না। আপাতত বদলি বিষয়টি একটি প্রাথমিক প্রক্রিয়া হলেও তাকে পরবর্তীতে অবশ্যই ওএসডি, শাস্তি এমনকি বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হতে হবে যা মন্ত্রনালয়ে প্রক্রিয়াদীন রয়েছে এমনকি তার এসব ঘুণিত কর্মকান্ডের জন্য সব ধরনের শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমরা মন্ত্রণালয়ে মতামত প্রেরণ করেছি।’
চলতি বছরের ৩১ মে দৈনিক যুগান্তরের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় এমনকি দেশের অন্যান্য জাতীয় দৈনিক ও াণরাইন নিউজ পোর্টালে ‘বিয়ে না করে বান্ধবীকে নিয়ে সংসার: ফেঁসে যাচ্ছেন তাহিরপুরের ইউএনও, প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দেশ বিদেশের পাঠক ও সরকারের দায়িত্বশীল মহলের নজরে আসে ইউএনও আসিফের অতীত কর্মকান্ড ও বান্ধবীর অ্যাকাউন্টে ২০ লাখ টাকা লেনেদেনের বিষয়টি।
পরবর্তীতে বাসভবন মেরামতের জুন ক্লোজিং বিল নিয়ে বিতর্ক দুই কোটি টাকার ৩৫টি বিল আটকে দিলেন ইউএনও!শিরোনামে যুগান্তরের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার প্রিন্ট ভার্সনে ২৮ জুন আরো একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপুর্বে ২৭ জুন যুগান্তরের যুগান্তরের অনলাইন ভার্সনেও সংবাদটি প্রকাশিত হলে সারা দেশে কর্মরত প্রশাস ক্যাডার সহ সরকারের দায়িত্বশীলদেন নজরে আসে আসিফের ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.