ঠাকুরগাঁওয়ে “দি ইঞ্জিনিয়ার্স রত্ন গর্ভা মা ২০১৯”পুরস্কার পেলেন – রওশন আরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি,, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, (আইইবি) ঢাকা কেন্দ্র ও দি ইন্জিনিয়ার ফাউন্ডেশন প্রদত্ত “দি ইঞ্জিনিয়ার্স রত্ন গর্ভা মা ২০১৯” পুরস্কার পেলেন ঠাকুরগাঁও-এর রওশন আরা। তাঁর বাড়ি ঠাকুরগাঁও-এর কিসমত কেশুর বাড়ি গ্রামে। প্রয়াত ঠাকুরগাঁও চিনিকলের ইন-চার্জ মো: আব্দুর রশিদের স্ত্রী রওশন আরা । ৯ সন্তানকে গ্রামের একজন সাধারণ নারী হয়েও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন তিনি।রওশন আরা বেগম খুব সাধারণ আড়ম্বরহীন জীবনযাপন করেন। ধর্মভীরু নারী। তিনি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার ৪ নং বড়গাও ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মরহুম রজবউদ্দীন আহমেদ এর পুত্র ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ইনচার্জ মো: আব্দুর রশিদের সঙ্গে বিয়ে হয়। প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা বা কোনো ডিগ্রি নেই তাঁর। রওশন আরা স্বামীর অকাল মৃত্যুর পরেও তাঁর অদম্য প্রচেষ্টা ও শিক্ষার প্রতি বিশেষ অনুরাগ থাকায় ৯ সন্তানের সবাইকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। যা অত্র এলাকার বিশেষ দৃষ্টান্ত। তাঁর প্রতিটি সন্তান আজ দেশে-বিদেশে স্ব-স্ব পেশায় প্রতিষ্ঠিত। এ রকম বহু সফল মানুষ ও পরিবারের পেছনে থাকেন একজন করে মা। মায়ের ভেতরের বড় গুণ, যোগ্যতা, স্বপ্ন ও ব্যক্তিত্ব সন্তানের ভেতরে প্রবাহিত হয়। এই মায়েদের ভেতর দিয়েই তাঁদের সন্তানেরা সফল হয়ে থাকেন।সমাজে নিজের সন্তানদের সুশিক্ষিত এবং আগামী দিনের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার স্থপতি ও স্বীকৃতস্বরূপ রওশন আরাকে শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনের জন্য ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, (আইইবি) ঢাকা কেন্দ্র ও দি ইঞ্জিনিয়ার্স ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে দেওয়া হলো প্রথম বারের মতো প্রবর্তিত “দি ইঞ্জিনিয়ার্স রত্নগর্ভা মা পুরস্কার -২০১৯”।  শনিবার ৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪ টায় রাজধানীর আইইবি অডিটরিয়াম, রমনায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতনু নেসা ইন্দিরা এম. পি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর, প্রেসিডেন্ট, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ এবং প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, সন্মানী সাধারণ সম্পাদক, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ। রত্নগর্ভা রওশন আরার প্রথম সন্তান এ. বি. এম গোলাম রব্বানী, চরনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁয়ের প্রধান শিক্ষক, দ্বিতীয় সন্তান বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর সন্মানিত অধ্যক্ষ এবং বরিশাল ইন্জিনিয়ারাং কলেজের অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডক্টর প্রকৌশলী মো: রুহুল আমিন, তৃতীয় সন্তান সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, রংপুর সহকারী অধ্যাপক মো: আব্দুর রাজ্জাক, চতুর্থ সন্তান কোরিয়া সানচুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্টিফক অফিসার ড. এ, কে, এম, জিলানী রাব্বী, পঞ্চম সন্তান সহযোগি অধ্যাপক ড. এ, বি, এম রুবাইয়াত বোস্তামী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে, বড় মেয়ে রাহেনা বেগম, ঠাকুরগাঁও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের রাজাগাও ইউনিয়নে, ছোট মেয়ে রশিদা বেগম হেলেন সহকারী শিক্ষক, কামাত পাড়া, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেতুলিয়া, পন্চগড়ে কর্মরত। অপর কন্যা সন্তানেরাও শিক্ষিত গৃহিনী। তাঁর দ্বিতীয় সন্তান বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর অধ্যক্ষ ডক্টর প্রকৌশলী মো: রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার মা একজন মহীয়সী নারী। তিনি আমাদেরকে যেমন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন তেমনি আমাদের এলাকায় প্রতিবেশীদেরকেও শিক্ষিত করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে থাকেন । তিনি শিক্ষা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। মা মনে করেন শিক্ষাবিহীন মানুষ অন্ধ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই তিনি সবসময় শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বলেই আজ আমরা তাঁর ৯ সন্তান নিজ নিজ পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত। ’ পুরস্কার পাওয়া মা রওশন আরা বলেন, ‘এ রকম একটা দিন যে আমার জীবনে এসেছে, সেটা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের। উল্লেখ্য, ২০০৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠিত ও উচ্চশিক্ষিত সন্তানের মায়েদের রত্নগর্ভা মা পুরস্কার দিয়ে আসছে আজাদ প্রোডাক্টস। এবারই প্রথম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, (আইইবি) ঢাকা কেন্দ্র ও দি ইন্জিনিয়ার ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে দেওয়া হলো “দি ইন্জিনিয়ার রত্নগর্ভা মা পুরস্কার -২০১৯”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.